Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

১৯৭৪ সালে মেরিনার-১০ এর মার্কারী ও ভেনাস গ্রহে যাত্রা সম্পর্কে আগাম তথ্য আল-কোরানের সুরা ইনশিক্বাকে



imagesmercury-300x300

মুহাম্মদ শামীম আখতার, বাংলাদেশমুভস, ১৫ জিলহজ্ব, ১৪৩৭, ২ আশ্বিন ১৪২৩, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬: আল-কোরান আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত একটি কেতাব, যা আজ থেকে চৌদ্দশ বছরের বেশি সময় আগে লওহে মাহফুঝে থাকা এই কোরান নির্দিষ্ট সময় ব্যাপি বিভিন্নে অংশে হযরত জিবরাইল আ. আল্লাহরই হুকুমে আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সা. এর উপর নাযিল করেন। যখন সমগ্র কোরান নাযিল হয়, তখনও কোন আয়াতের পর কোন আয়াত বসবে, তাও তদারকি করেন হযরত জিবরাইল আ. । সেই থেকে আজ অবধি পৃথিবীর এই একটি মাত্র কেতাব বা গ্রন্থ রয়েছে, যা সবচেয়ে বেশি বার পঠিত এবং যার একটি বর্ণও পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়নি। বস্তুত: আল-কোরানের সংরক্ষক আল্লাহপাক নিজে। আল-কোরানকে জীবন্ত মুজেযাও বলা হয়।
আল-কোরানকে নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে এবং এখনও সেই গবেষণা অব্যাহতভাবে চলছে । গবেষণায় আল-কোরানের নানা আশ্চর্য করা বিষয় বেরিয়ে এসেছে। ড. রাশেদ খলিফা কয়েক দশক আগে আল-কোরানে ১৯ এর গাঁথুনি নিয়ে সাড়া জাগানো গবেষণা করেন। সেই গবেষণা প্রচার করেন দক্ষিণ আফ্রিকার ইসলাম প্রচারক আহমেদ দীদাত, ড. জাকির নায়েক এবং অনুরূপ অসংখ্য দা’য়িরা।
সমকালীন ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্য প্রযুক্তির দুনিয়ায় তুরস্কের হারুন ইয়াহিয়া এবং সিরিয়ার আব্দুল দাহিম আল-কাহিল আল-কোরানের অলৌকিক প্রসঙ্গ নিয়ে পৃথক দুইটি ওয়েবসাইট করেছেন। এছাড়া এতদ্সংশ্লিষ্ট আরও অনেক সাইট রয়েছে, যেখানে আল-কোরানের বিশেষত্ব নিয়ে নিত্যনতুন প্রবন্ধ নিবন্ধ ছাপা হচ্ছে। এমন কিছু প্রবন্ধ, নিবন্ধ আমরা বাংলা ভাষায় অনুবাদ অথবা মূল গবেষণার সাথে আলোচনা সংযোজন করে বাংলা ভাষায় প্রকাশ করছি। আল-কোরানের অলৌকিকত্ব বা মুজীযার একটি বিরাট অংশ জুড়ে আছে জ্যোর্তিবদ্যা। গ্রহ, নক্ষত্র, মহাকাশ, চন্দ্র ,সূর্য এই বিষয়গুলো এত সূক্ষ্ম কিন্তু এত সঠিক তথ্যে আল-কোরানে এসেছে যে তা দেখে যে কোন চিন্তাশীল গবেষক রীতিমত চমকে যান। চন্দ্রে অবতরণ সম্পর্কে আল-কোরানে সালের উল্লেখ সম্পর্কিত লেখাগুলো প্রকাশিত হবার পর অনেকেই আল-কোরানের মুজীযার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। সেই ধারায় আমরা আজ আরেকটি বিষয় আলোচনা করবো।
১৯৬৯ সালে মানুষের চন্দ্রে অবতরণের এই সনটি আল-কোরানের সুরা কামারাতে উল্লেখ করা হয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম গাণিতিক প্রক্রিয়ায়। একইভাবে সুরা মরিয়মে স্পুৎনিক এর মহাকাশ গমনের বিষয়টিও আছে অত্যন্ত কৌশলে। সেই ধারাতে আমি দেখিয়েছি যে সুরা ইনশিক্বাকেও অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ১৯৮৪ সালে চ্যালেঞ্জার নামক মহাকাশযানের পৃথিবীর কক্ষপথে পরিভ্রমনের ঘটনাটি দেড় হাজার বছর আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আপনারা জানেন কি ১৯৭৪ সালে ভেনাস ও মার্কারীতে মানুষের নভোযান প্রেরণের ঘটনাটিও আল-কোরানে সহস্র বছর আগে কৌশলমূলক গাণিতিক প্রক্রিয়ায় পেশ করা হয়েছে।

কী ছিল সেই ১৯৭৪ এর ঘটনা?

১৯৭৩ সালের ৩ নভেম্বর। এদিনেই নাসা একটি রোবট সজ্জিত নভোযান মেরিনার ১০ প্রেরণ করে মহাকাশে। এই নভোযানের লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর মত সৌর মন্ডলের দুইটি গ্রহ মার্কারী ও ভেনাসের ভূ-তাত্ত্বিক ও পরিবেশগত অবস্থা জানা। মেরিনার-১০ নামে এই নভোযানটি ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকে ভেনাস এবং তারপর মার্কারীর কক্ষপথে প্রবেশ করে। এই ঘটনাটি ছিল মানবেতিহাসে অনন্য ঘটনা। কারণ পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদে পৌঁছানো গেলেও এটি ছিল প্রথম সফল অভিযান, যার ফলে নভোযানটি ভেনাস ও মার্কারী গ্রহের আলোকচিত্র পৃথিবীতে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়। এই মিশনের মাধ্যমে তৎকালীন ক্যামেরার গুনগত মানে মার্কারীর চিত্র যেটুকু ধরা পড়ে তাতে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় যে মাকার্রীতে অবিরাম ক্রেটার বা মহাজাগতিক বড় পাথরখন্ড দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে চওড়া গর্ত হয়ে গেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্ণিয়ার মরুভূমিতে দৃশ্যমান একটি বড় গর্তের সমতুল্য। ভেনাস সম্পর্কে প্রাপ্ত ছবি থেকে আরও দেখা যায়, এই গ্রহটি চতুর্দিকে একটি গ্যাসীয় আবরণ দ্বারা বেষ্টিত। পরবর্তীতে যে মিশনগুলো প্রেরিত হয়েছে, তা থেকে দেখা গেছে ভেনাস একটি উত্তপ্ত গ্রহের নাম, যেখানে কেবলই অগ্নৎপাত হচ্ছে এবং প্রায় ৮০০ ডিগ্রীর উপর তাপমাত্রা। 61pcekyhyil
অপরদিকে মার্কারী সম্পর্কে যে ধারনা বিজ্ঞানীরা লাভ করেছেন, তা থেকে দেখা যায় সেখানে কোন বায়ুমন্ডল নেই বলে বড় পাথর দ্বারা গ্রহটি আঘাতপ্রাপ্ত হলেও তার শব্দ প্রতিফলিত হয় না। আর এটি খুব ধীর গতিতে কক্ষপথে ঘুরে- ফলে ছয়মাস রাত থাকে এবং রাত হলে সবকিছু কালো হয়ে যায়। আর যে অংশে সুর্য দেখা যায় সে অংশে সূর্যকে বড় দেখা যায়, তবে তাপমাত্রা অসম্ভব বেশি থাকে। আর রাতে বহু বর্ণের বিচ্ছুরণ দেখা যায়।
১৯৭৪ সালের ২৯ মার্চ মেরিনার-১০ মাকার্রীর কক্ষপথে পৌঁছানোর আগে এর ক্যামেরার হিটারগুলো চালু হচ্ছিল না। নাসা দূর থেকে অচল ও সচল করেও তা চালু করতে পারছিলেন না নাসা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ, সৌভাগ্যক্রমে ক্যামেরার তাপমাত্রা স্থিতিশীল হলে তা সচল হয়। মেরিনার-১০ যখন মার্কারীর চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের পরিমাপ নেয়, তখন দেখা যায় যে, পৃথিবীর ছয়ভাগের মাত্র একভাগ চৌম্বকীয় ক্ষেত্র আছে মার্কারীতে। বিজ্ঞানীরা তখন বিশ্বাস করেন যে, সৌর-বায়ুর সাথে অভিঘাত নয় বরং মার্কারীর কেন্দ্র থেকেই চৌম্বকীয় ক্ষেত্র তৈরী হচ্ছে। মেরিনার-১০ হিলিয়াম গ্যাসের একটি আবরণ গ্রহের চুতির্দিকে রয়েছে বলে বুঝতে পারে।
জ্বালানী শেষ হয়ে যাবার পর ১৯৭৫ সালের ২৪ মার্চ মেরিনার -১০ পৃথিবীত কোন তথ্য বা ছবি প্রেরণ বন্ধ করে দেয়। ধারণা করা হয়, মেরিনার -১০ এখনও সৌরমন্ডলের নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরপাক খাচ্ছে। মেরিনার -১০ এর প্রাপ্ত তথ্যের পর ২০০৮ সালে ম্যাসেঞ্জার নামে আরেকটি মহাকাশযান মার্কারীর কক্ষপথে প্রেরণ করা হয়। রাশিয়াও ভেনচুরা নামে আরেক মিশন প্রেরণ করে ভেনাসে।

মেরিনার -১০,  মার্কারী  এবং আল-কোরানে এই ঘটনার পূর্বানুমান: 

1web১৯৭৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সফল মিশন পরিচালনা করা ছাড়া একমাত্র সোভিয়েত ইউনিয়ন অনুরুপ মহাকাশ মিশন নিয়ে তৎপর থাকে। অপরাপর দেশের কথা তখন শোনা যায়নি। এই তথ্য যদি সঠিক থাকে, তাহলে নাসা প্রেরিত মেরিনার -১০ মিশন ছিল মানুষের চাঁদে অবতনের পর সৌরজাগতিক পরিভ্রমণ বিশেষ করে গ্রহ আবিষ্কারের পথে প্রথম ধাপে পা রাখা।
এই কথাটিই আল্লাহ কোরানের ইনশিক্বাকের ১৮-১৯ নং আয়াতে বলছেন এভাবে,
وَالْقَمَرِ إِذَا اتَّسَقَ
لَتَرْكَبُنَّ طَبَقًا عَن طَبَقٍ
“এবং চন্দ্রের, যখন তা পূর্ণরূপ লাভ করে। নিশ্চয় তোমরা এক সিঁড়ি থেকে আরেক সিঁড়িতে আরোহণ করবে।” (সুরা ইনশিক্বাক, আয়াত ১৮-১৯) (১৯৭৪)
মজার ব্যাপার কি জানেন আয়াত (১৮+১৯) = ৩৭ X ২= ৭৪। আবার সুরা আল-মোদ্দাসসের এর ৩০ নং আয়াতে বলা হচ্ছে : তার উপর আছে উনিশ (সুরা আল-মোদ্দাসসের, আয়াত ৩০)।  এখন এই ১৯ যদি ৭৪ এর  পূর্বে যোগ করি তাহলে হচ্ছে ১৯৭৪। এখানে ২ (দ্ইু) হচ্ছে মানুষের চাঁদ আবিষ্কারের পর দ্বিতীয় মহাজাগতিক আবিষ্কার।
এবার আসুন সুরা ইনশিক্বাকের আয়াত সংখ্যার ব্যাপারে। এই সুরাতে মোট আয়াত সংখ্যা হচ্ছে ২৫। আর এই ২৫ কে ৩ দ্বারা গুণন করলে হয় ৭৫। আর ১৯ যোগ করলে ১৯৭৫ সাল হয়, যে সময় অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ২৪ মার্চ মেরিনার জ্বালানীর অভাবে তথ্য প্রেরণ বন্ধ করে। এখন এই ৩ কে আরেকভাবে বিবেচনা করা যায়। তিনটি সিঁড়ি বা তিনটি স্তরে।
১. পৃথিবীর কক্ষপথের সিঁড়ি (যা প্রথম সিঁড়ি);
২. ভেনাসের কক্ষপথের সিঁড়ি ( যা দ্বিতীয় সিঁড়ি);
৩. মার্কারীর কক্ষপথের সিঁড়ি ( যা তৃতীয় সিঁড়ি)।
সুরা ইনশিক্বাক এর ইনশ্বিকাকের অর্থ হচ্ছে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, এবং সত্যিই মেরিনার-১০ পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
মূলত: এই অনুসন্ধানটি এককভাবে আমার দ্বারা সম্পাদিত এবং এই বিষয়টিকে নিয়ে কোন অনুসন্ধান অন্তত: কারও লেখাতে পাওয়া যায়নি। হয়ত এই ধারণাকে উড়িয়ে দিতে চাইবেন কেউ কেউ; কিন্তু বাস্তব ঘটনাপ্রবাহ এবং সুরা ইনশিকাকের ১৮-১৯ নং আয়াতে বর্ণিত অবস্থা তুলনা করলে এমন অলৌকিক বন্ধন খুঁজে পাওয়া যায়।
এটিকে আমি আল-কোরানের একটি বিশেষত্ব বলছি। তবে আল-কোরান নিয়ে গবেষকরা গবেষণা করতে পারেন, আল্লাহ চাহেন তো আরও রহস্য তিনি তার বান্দার মস্তিষ্কে আরোপিত করতে পারেন। তবে আমি আমার সকল অক্ষমতা বরাবরের মত আল্লাহর সমীপে নিবেদন করছি এবং পাঠকদের গঠনমূলক বক্তব্য প্রত্যাশা করছি। শব্দ: ১০৩৩
তথ্যসূত্র:
1. http://www.nasa.gov/mu…/imagegallery/image_feature_1483.html
2. http://www.space.com/18301-mariner-10.html
3. https://en.wikipedia.org/wiki/Mariner_10


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com