Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

সুরা কদরকে সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে বিশ্লেষণ করে হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর ২৭ রমজানে লায়লাতুল কদর নির্ধারণ



ramadhan19

 

মুহাম্মদ শামীম আখতার, বাংলাদেশমুভস, ২১ জুন, ২০১৭:
ক.
আল-কুরআনের ৯৭ নং সুরা হচ্ছে সুরা লায়তুল কদর। রমজানে মাসের শেষ দশ দিনের বেজোড় রাতগুলোর মধ্যে একটি বিশেষ রাত সম্পর্কে আলোচিত এই সুরাটি। আরবি ভাষায় ‘লাইলাতুন’ অর্থ হলো রাত্রি বা রজনী এবং ‘কদর’ শব্দের অর্থ সম্মান, মর্যাদা, মহাসম্মান। এ ছাড়া এর অন্য অর্থ হলো ভাগ্য, পরিমাণ ও তাকদির নির্ধারণ করা। (১) আমরা জানি উম্মতে মুহাম্মদীর বয়সকাল গড়ে ৬৫ বছর। কিন্তু পূর্ববর্তী নবী ও রাসুলদের এবং তাদের উম্মতদের কারও কারও বয়স ১০০০ বছর ছিল। ফলে যৌক্তিকভাবেই তাদের ইবাদতের পাল্লা ভারী হবার বিষয়টি রাসুল সা. এর সাহাবীদের মনে দাগ কাটে। তারা জানতে চান তাদের স্বল্পকালীন জীবনের ইবাদত জান্নাতে দাখিলের জন্য যথেষ্ট হবে কিনা। এর জবাবে আল্লাহপাক লাইলাতুল কদর সুরা নাযিল করেন এবং জানিয়ে দেন যে একটি নির্ধারিত রজনী হাজার বছর থেকে উত্তম । এই রজনীর ইবাদত হাজার বছরের ইবাদতের সমতুল্য। আল্লাহর রাসুল হিসেবে হযরত মুহাম্মদ সা. বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন। তিনি রমজান মাসের শেষ বেজোড় রাতগুলোর যে কোন একটিতে লায়লাতুল কদর সংঘটিত হতে পারে বলে তার সাহাবীদেরকে বলেন। অর্থাৎ এই লায়লাতুল কদর একটি রাত এবং সেই রাত সুনির্দিষ্টভাবে কোনটি তা আল্লাহর রাসুল সুনির্দিষ্ট করে বলেননি। ২৩, ২৫, ২৭, ২৯ রমজানের যে কোন একটি। এই অবস্থায় সাহাবীদের মধ্যে একটি প্রয়াস চলে সুনির্দিষ্ট রাত তল্লাশীর। এই সুযোগটা আসে আল্লাহর রাসুলের ইঙ্গিত থেকে । আল-কুরআনের শব্দগত অর্থ, ভাবার্থ, উদ্দেশ্য অবতরণের প্রেক্ষাপট, অন্তর্নিহিত বিধানাবলী ও উপকারিতা এ সব বিষয়ের সাথে তাফসীর শাস্ত্র বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট। (২) অর্থাৎ কুরআনকে সেই রাসুল যুগ থেকে বিভিন্ন দৃষ্টি থেকে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। আল্লাহর রাসুল সা. এর ইঙ্গিতে সাহাবীদের মধ্যে হযরত আলী রা. ইবনে মাসউদ রা., ইবনে আব্বাস রা. এবং উবাই ইনে কা’আব রা. তাফসীর জ্ঞানে প্রসিদ্ধ ছিলেন। আল- কুরআনের ব্যাখ্যাদাতা হিসেবে পুরোভাগে ছিলেন আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মদ সা. । তবে তার জীবদ্দশায় এবং ইন্তেকাল উত্তর ব্যাখ্যা বিশ্লেষেণে উপরে বর্ণিত কয়েকজন সাহাবীর ভূমিকার কথা অগ্রগন্য । এছাড়া আয়েশা রা.ও বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা দেবার চেষ্টা করেন।
খ.
লাইলাতুল কদর বা সৌভাগ্যময় রজনীটি ঠিক কোনটি তা নির্ধারনে হযরত আব্বাস রা. একটি ভিন্ন ধারায় প্রচেষ্টা চালান। মূলত: তার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মুসলমান দেশগুলোতে ২৭ এ রমজান দিবাগত রাতকেই লাইলাতুল কদর নির্ধারণ করা হয়। মজার তথ্য হচ্ছে : ইবনে আব্বাস রা. ২৭-কে লাইলাতুল কদর নির্ধারনে একটি গাণিতিক ফর্মূলা প্রয়োগ করেন।
ঘটনাটি জানলে: মুসলমান ও অমুসলমানকে স্বীকার করতে হবে আল-কুরআনকে গবেষণা করতে গেলে গণিতশাস্ত্রকে সামনে আনা যেতে পারে। মিশরীয় বিজ্ঞানী রাশাদ খালিফা ১৯ শতকের ৭০ এর দশকে আল-কুরআনে ১৯ এর অলৌকিক বুনন নিয়ে যে গবেষণা করেন- সেটি প্রমাণ করে যে তিনি সাহাবীযুগের একটি ধারা অনুসরণ করেছিলেন এবং কুরআন গবেষণায় তার এপ্রোচ একটি প্রাচীন এপ্রোচের ধারাবাহিকতা।
ইবনে আব্বাস রা. সুরা কদর বিশ্লেষণ করেন । তিনি বলেন যে, সুরা কদরে ৫টি আয়াতে মোট ৩০ টি শব্দ আছে, এবং সাতাশ নম্বর শব্দ হচ্ছে হিয়া, যার অর্থ হচ্ছে ‘ইহা/এটা’ (এটা নিরাপত্তা, যা ফজরের উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে)। এই/ এটা হচ্ছে সেই রাত। অর্থাৎ সাতাশে রাতেই হচ্ছে শবে কদর।
এছাড়া তিনি এই সুরা নিয়ে তিনি করেকটি গাণিতিকি বিশ্লেষণ করেন। লাইলাতুল কদর এই আরবী শব্দমালা যোগ করলে দেখা গেছে এখানে আছে ৯টি বর্ণ আছে এবং গোটা সুরা কদরে কদর শব্দটি এসেছে তিনবার। এখন ৯টি বর্ণ গুণ ৩ = ২৭ ; অর্থাৎ ২৭ টি বর্ণ। এখানেও সাতাশের অস্তিত্ব পাওয়া।
দুইটি গাণিতিক বিশ্লেষণ থেকে হযরত ইবনে আব্বাস রা. দাবী করেন যে, শবে কদর ২৭ শে রমজানের রাতেই হবে। অর্থাৎ শবে কদর হিসেবে ২৭ রমজান নির্ধারণ হয়েছে আল-কুরআনের গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে।
তথ্যসূত্র:
(১) উইকিপেডিয়া।
(২) তাফসীরশাস্ত্রে সাহাবাগণের ভুমিকা, মো জয়নুল আবেদীন ও একেএম আমিনুল হক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় পত্রিকা, সংখ্যা ৭৬, জুন ২০০৩।
(৩) Miracles of the Quran | Hidden Gems In Surah Al Qadr | Saad ibn Sabah/


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com