Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন তহবিলের অর্থ শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত গৃহায়ন ও নিরাপদ পরিবহনে বিনিয়োজিত করা হচ্ছে না কেন?



11

মুহাম্মদ শামীম আখতার, বাংলাদেশমুভস, ঢাকা, ২৮ জমাদিউস সানি, ১৪৩৮, ১৫ চৈত্র, ১৪২৩, ২৮ মার্চ, ২০১৭: সম্পদ কিছু গুটিকয় মানুষের হাতে বন্দী থাকতে পারেনা, ধনীর সম্পদে অসহায় ব্যক্তিরও হক আছে । মানব সমাজের মৌলিক কল্যানকর নীতিটি এসেচে আল-কোরানে ( আল -কোরান, ৫৯:৭) । আল্লাহই এই নীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে সম্পদ ধনীর হাতে পুঞ্জিভূত থাকলে সমাজে ভোক্তার ক্ষমতা হ্রাস পায়, যা আসলে ধনীর দিকে বুমেরাং এরম ত আঘাত করে। এই কথা বিবেচনা করেই হযরত ইসা আ. থেকে হযরত মুহাম্মদ সা. এর নব্যূয়তকালে ধনী উম্মতের উপর যাকাত ফরজ করা হয়েছিল এবং আল্লাহর শেষ পয়গম্বর হিসেবে হযরত মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহিয়াসাল্লামের উপর এখনও বহাল আছে। তবে সেই যাকাতের বিধানকে দাজ্জাল রূপী পশ্চিমা সভ্যতার ধারকরা রহিত করে চালু করেছে নানা প্রকার চাঁদা তহবিলের ব্যবস্থা। কিন্তু সেখানে তারা ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেনি। কারণ ভারসাম্য রক্ষার অঙ্ক তো আল্লাহর হিসেবের মধ্যেই আছে।
তবু তারা ধনীর সম্পদে গরীবের হকের বিষয়টি খন্ডিতভাবে হলেও স্বীকার করে নিয়েছে। বাংলাদেশও দাজ্জালিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় আইএলও’র পরামর্শে শ্রম মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন নামক তহবিল গঠন করেছে এবং বড় বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে বছরে লভ্যাংশের ৫ শতাংশ জমা দেবার বিধান করেছে, সেই হিসেবে আজকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক বাংলাদেশ সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন তহবিলে ২ শত ১ কোটি টাকা জমা হয়েছে।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরের লভ্যাংশের ৫ শতাংশের ১ দশমাংশ ১ কোটি ৩২ লাভ ৯ হাজার ৪৮৭ টাকা মন্ত্রণালয়ের শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে জমা দিয়েছে। আজ পর্যন্ত সারা দেশের মোট ৭৩ টি কোম্পানী এ তহবিলে অনুদান প্রদান করেছে।
বিধি মোতাবেক এই টাকা শ্রমিকদের কল্যানমূলক কাজে ব্যবহার করার কথা থাকলেও তা কোথায় কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে – মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রী কেউই সেই বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
আমরা জানি ঢাকা হচ্ছে বাংলাদেশের জিডিপির প্রায় ৬০ শতাংশ অবদানের একটি শহর, সেই শহরে কেন্নো পোকার মত এক বর্গকিলোমিটারে প্রায় ২৬০০ জন লোক বাস করে, যাদের অধিকাংশই শ্রমজীবী মানুষ। আপনারা শহরটি যদি ঘুরে আসেন তাহলে দেখবেন তাদের নেই উন্নত আবাসিক ব্যবস্থা, নেই খাবার পানির সুব্যবস্থা, যোগাযোগের জন্য নেই নিরাপদ গণপরিবহন- সব মিলিয়ে একটি দুর্বিষহ অবস্থা।
শ্রমজীবী মানুষের নামে সংগৃহীত কল্যান তহবিল যদি শ্রমজীবীর কল্যানে সত্যিই ব্যবহৃত হোত, তাহলে রেললাইনের পাশে যেমন তেজগাঁও শিল্প এলাকার শ্রমিকদেরকে বাস করতে হয়, তা বান করতে হোত না। জীবন বাজি রেখে ঝুলে ঝুলে শ্রমিকদেরকে অনিরাপদ গণপরিবহনে শিল্প কারখানায় যাবার পথে অনাকাঙ্খিত আহত ও নিহত হতে হোত না। আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি এই শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশেনের টাকা ব্যাংকে রেখে সুদ বাবদ অর্থ সংগ্রহ করে আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করে সৃষ্ট অর্থ ক্ষমতার এলিটদের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে।
কয়েকটি গার্মেন্টস এর যৎকিঞ্চিৎ সাফল্য সামনে এনে এ দেশের শতভাগ শ্রমিকদের দুর্বিষহ চিত্রকে ঢেকে রাখার একটি চেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, শ্রমিকদের কল্যান যদি সত্যিই সাধিত হোত তাহলে বস্তি যেমন দেখতে হোত না, তেমনি ঝুলে যাওয়া কর্মজীবী মানুষের দুর্বিষহ চিত্র দেখতে হোত না।
এই বৈষম্যের চিত্র কি সহসা পাল্টাবে- কি বলেন হাফ মন্ত্রী?


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com