Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

রোহিঙ্গাদের তাজা খুন যে কারণে আমাদেরকে দেখতে হবে


arosak

মুহাম্মদ শামীম আখতার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭: রোহিঙ্গা এবং রাখাইনের নির্যাতিত মানুষ – এ শব্দগুলো এখন দুনিয়ার প্রতিটি সচেতন মানুষের কাছে খুব প্রিয় শব্দ। এটা রাজনৈতিক সমস্যার আন্তর্জাতিকীকরণের একটি সাফল্যের দিক। যারা কোন সংকটকে আর্ন্তজাতিক দরবারে পরিচিত করিয়ে তাদের জাতি গঠনের প্রক্রিয়াকে সামনে এগিয়ে নিতে চান, তাদের কাছে এটি একটি সাকসেস স্টোরি। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যাও এমন একটি ঘটনা ছিল, যা বাংলাদেশের জাতিসত্তা বিনির্মাণে ভূমিকা রেখেছিল। মায়ানমারের রোহিঙ্গা গণহত্যা এবং পুর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের গোটা প্রশাসনের প্রচেষ্টায় পরিচালিত গণহত্যা – দুটিকে এখন অনেকেই এক কাতারে ফেলতে চাচ্ছেন। আমার কাছেও মনে হয়েছে এর স্বরূপ একই। দু’টিই প্রশাসনের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে পরিচালিত দমন পীড়নের বহিঃপ্রকাশ। আমি এমন তাত্ত্বিক কথা ঘটনা যে দিন ঘটেছিল সেদিন লিখতে পারতাম, কিন্তু লিখিনি, আমি মানুষকে ভালবাসি – আমি সেদিন তুবড়িবাজি চাইনি, আমি চেয়েছিলাম পালিয়ে আসা মানুষগুলো রক্ষা পাক। আমার সে চেষ্টা সফল। স্বেচ্ছায় কোন মানুষ হত্যার মত জঘণ্য পাপ আর হতে পারে না, আমাকে যদি – রক্তপাতহীনতা এবং রক্তের বাহুল্য –  এ দুটির মধ্যে কোন বিকল্পটি বেছে নিবেন ? তাহলে আমি বলবো – রক্তপাতহীনতা বা রক্তের সীমিত প্রবাহ। এটা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মদ সা. এর কাছ থেকে আমার শিক্ষা। তিনি জীবনে আশিটির মত যুদ্ধ পরিচালিত করেছিলেন, যার মধ্যে মৃতের সংখ্যা ছিল ৮০০ থেকে ১২০০ । এটা বিস্ময়কর ব্যাপার। প্রশ্ন হচ্ছে: কেন রক্ত প্রয়োজন? কারণ রক্তের প্রবাহই বুঝি সভ্যতার খোরাক। রক্তই বুঝি মানুষকে ওলট পালট করে দেয়। প্রাণির আহাজারি আর বাকশক্তিহীন সব্জির কচু-কাটা – কোনটি বেশি অ্যাপিল সৃষ্টি করে? আজকে গরুর শিরোচ্ছেদ এতটাই  অ্যাপিল করে যে, গরুর হাম্বা হাম্বা রবের কাছে মানুষের গোঙ্গানিও অনেকের কাছে কোন যুক্তিবোধের কারণ হয় না।

আমরা রোহিঙ্গার কথা বলছিলাম, আমরা বলতে চাই মুসলমান হত্যার কথা।  সভ্যতা বিগত এক দু’শত বছরে কী বলে? যদি বিগত শতকের প্রথম বিশ্বযুদ্ধ   এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কথা বলি- তাহলে কত সংখ্যক খ্রিস্টান, জাপানী, কোরীয়, চীনা মারা গেছে? যদি ড্রাগ নিয়ে মধ্য আমেরিকায় যুুদ্ধের কথা বলি তাহলে কত সংখ্যক খ্রিস্টান হবে ? কোটি কোটি । তাহলে খুন কেবল মুসলমানের বইছে না, খুন বইছে সকলের। সকল আদম সন্তানের। কারা এর নায়ক? এদের কেউই মুসলমান নয়। তার মানে এ নয় যে, মুসলমান দেশে খুন হয়নি। ইবলিস তো সব ফ্রন্টে কাজ করেছে। তার মানে রক্ত বইছে, রক্ত বইবে – এক সময় ইউরোপে যুদ্ধবিরোধী সাহিত্য আন্দোলন হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল যুদ্ধ বন্ধ হয় না, যুদ্ধ দিয়েই যুদ্ধ বন্ধ করতে হয়। এ জন্যই জেহাদের ধারণা এসেছে আল-কুরআনে, যার পূর্ণ বাস্তবায়ন আল্লাহর রাসূল।

আমাদের দেশে একটি কথা আছে – সোজা আঙ্গুলে ঘি ওঠে না। আঙ্গুল বাকা করলে নাকি- ঘি উঠে। মানবসভ্যতার ইতিহাস হচ্ছে জেহাদ দিয়েই যুদ্ধকে বন্ধ করার ইতিহাস। রোহিঙ্গাদের খুনও সেভাবে দেখা যেতে পারে। ষোড়শ শতকে আওরঙ্গজেব যে মগ ফিরিঙ্গিদের দমন করেছিলেন, সেভাবেই  দমন করেন ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের আরেক জেনারেল আর ২০০০ সালে করেন আরেক জেনারেল ফজলুর রহমান। এগুলোর মধ্যে ১৯৭৮ টিতে যুদ্ধ লাগেনি, কিন্তু ২০০০ সালের টিতে ৬০০ বার্মিজ সেনা খতম করতে হয়। এগুলো আমি বাংলাদেশী হিসেবে গৌরবের মনে করি।  কিন্তু বার্মা জালিম জান্তার মতে? অবশ্যই না। এ হা এবং না হচ্ছে হাবিল এবং কাবিলের দ্বন্দ্ব- এর ধারাবাহিকতা। আপনার কি মনে হয় – হাবিল অপরাধী ছিলেন? অবশ্যই না , কিন্তু তিনি খুন হয়েছিলেন। এরপরই আল্লাহ আদমকে একজন সন্তান দেন, যার নাম সাইথ বা সিথ আ. যার উপর জেহাদ ফরজ হয়েছিল এবং তিনি কাবিলের বংশধরের সাথে জেহাদ করে দমন করেছিলেন। সুতরাং কৃষিজীবী কাবিল বনাম পশুচারী হাবিলের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তা চলতেই থাকবে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে আমরা কার পক্ষে থাকবো?

আজকে বার্মার কথা শুনলে একটি খবরই আসে তা হচ্ছে ইয়াবা। এ ব্যবসায় কেন একটি জনগোষ্ঠীর ব্রান্ডিং হবে, যখন এ ধরণের কাজ  আমাদের বিশ্বাসের সাথে  সাংঘর্ষিক?  জাতি গঠনের জন্য কি ইয়াবা ব্যবসায় করেছিলেন আমাদের নবী রাসুল রা? যদিও এ দাবীর পিছে এককভাবে কোন মুসলমানের সম্পৃক্ততা নেই। এটা বৌদ্ধ গোষ্ঠীরও  কাজ হবে। প্রশ্ন হচ্ছে: কেন মুসলমানরা এমন কোন হাতিয়ার তৈরী করেনি, যা তাদেরকে তাদের শত্রুকে তাদের প্রতি ভীত সন্ত্রস্ত রাখতে পারতো? অনেক প্রশ্ন আসে: একটি জনগোষ্ঠীর সহস্র বছরে গ্রামে পড়ে থাকার মধ্যে উত্তরণের কী গন্ধ পাওয়া যায়?

যে মিল্লাত ক্যাম্পে দম্পতি এবং তার সন্তানদের থাকার জন্য পৃথক কক্ষ থাকে না, এবং যখন একজন মুসলমান তার স্ত্রীর সাথে একান্তে থাকে, যার শব্দ এবং গন্ধ তার সন্তান পায়, সেটা কি টিকে থাকার মত একটি সমাজ? এটা কি হকের পক্ষে থেকে বেঁচে থাকার মত একটি সমাজ? আমার শিল্প হবে না, আমি কেবল তেল বেচার রিলিফ এর জন্য কাঙ্গাল হয়ে থাকবো – জেনেভার অনুকম্পা পাবার জন্য বস্তিতে থাকবো – এমন জাতিসত্তা কি টিকে থাকে?

আজকে মুসলমানদের তেলে মুসলমানদের সুন্দর আবাস হয় না, সুন্দর আবাস হয় ভেনিজুয়েলায়। মুসলমান বেকার যুবকদের হাত দিয়ে কালাসনিকভ হয় না, তার কন্ট্রাক্ট দেয়া হয় ইংল্যান্ড, আমেরিকা না হয় চীনে ? আর শত্রু না হত্যা করে করা হয় নিজের ভাই বোনকে। এও কি গোঁজামিল নয়? এসব গোঁজামিল আজ এক হয়েছে দেশে দেশে, যার একটি মর্মস্পর্শী অধ্যায় রচিত হলো – মিয়ানমারে। এখন সেখানে রোহিঙ্গারা ফিরে যাবে কি যাবে না, তাও নির্ভর করছে সে গোঁজামিল সৃষ্টিকারী দুরাচারদের হিসেব নিকেশে। আমাদের কথার কোন মূল্য নেই। আমরা তো একটি স্বেচ্ছা ভাঙগা চোরা রাস্তা, যার কারণে শত শত মুসলমান কষ্ট পায়, তা বলে কয়ে ঠিক করতে পারলাম না, আমাদের কী করার আছে?

আমাদের উচিত নয় গোঁজামিলকারীর খেলার ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া। আমাদের উচিত নিজ পথে হাঁটার রাস্তা  বের করার। দেখা যাক দাজ্জাল, ইয়াজুজ মাজুজ, আর তাদের সাথে চাদর পরে যুক্ত সে গোষ্ঠী কতটা বাঁধা দেয়।


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com