Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

“ মোবাইল ফোন ও ফোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকে নির্গত নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন মানবদেহের  জন্য ক্ষতিকর।”  অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়


1

অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান

বাংলাদেশমুভস, ৩সফর ১৪৩৮, ২০ কার্তিক ১৪২৩, ৪ নভেম্বর ২০১৬: অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক্স এন্ড টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের অধ্যাপক। সম্প্রতি ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে হয়ে গেল ২য় অলিম্পিয়াড ২০১৬। অলিম্পিয়াডের একটি সেশনে ছিল প্রবন্ধ পাঠ। অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান তখন মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর বিকীরণ এবং মানব দেহে তার প্রভাব নিয়ে একটি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। উক্ত প্রবন্ধে তিনি যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, তা হচ্ছে মোবাইল ফোনের নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন। এই বিষয়টি কম আলোচিত হয় বলে আমরাও বেশ কৌতুহলী হয়ে উঠেছিলাম এবং সে কারনে তার একটি একান্ত সাক্ষাৎকার নেওয়া জরুরী মনে করি। তিনি আমাদের সময়ও দিয়েছিলেন। পাঠকদের খেদমতে তা পেশ করছি:

বাংলাদেশমুভস: স্যার, বলবেন কি বর্তমানে বিশ্বে কী পরিমান মোবাইল ফোন ব্যবহৃত হচ্ছে?
অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান: ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন এর এক হিসেবে মতে, ২০১৪ সাল নাগাদ সারা বিশ্বে মোবাইল ফোনের ব্যবহারকারী ৬ বিলিয়ন। এটি একটি বিস্ময়কর ব্যাপার যে মোবাইল ফোন মানুষের নিত্যব্যবহার্য একটি পন্যে পরিণত হয়েছে। আধুনিক জীবন যেন মোবাইল ফোন ছাড়া কল্পনাই করা যায় না।
বাংলাদেশমুভস : এই বিপুল জনপ্রিয়তার কারণ কি?
অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান: এর কারণ হচ্ছে মোবাইল ফোন মানুষের ভাষায় যোগাযোগের একটি মাধ্যম। এক সময় যখন ডাক ছিল, তখন তা পড়তে হোত এবং তার ভাব বুঝতে হোত। একজন অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষের পক্ষে চিঠি পাঠ করা সম্ভব ছিল না, ফলে তাকে একজন অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন মানুষের সহযোগিতা নিতে হোত, তার কোন ইচ্ছাকৃত বিকৃতি একটি পারিবারিক বন্ধনকে পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন করতো। মোবাইল ফোন ঠিক তার বিপরীত। মোবাইল ফোন দিয়ে মানুষ নিজের ভাষায় কথা বলে যোগাযোগ করতে পারে, যেমন পাশাপাশি অবস্থান করে একজন ব্যক্তি যোগাযোগ রক্ষা করে।
বাংলাদেশমুভস: মোবাইলের মূল ধারনাটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হলেও মোবাইল যোগাযোগের সময় নির্গত ইলেকট্রোম্যাগনেটিত রেডিয়েশন অথবা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সী, যাকে নন আয়োনাইজিং রেডিয়েশন বলা হচ্ছে , তার মানবস্বাস্থ্যগত ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে । এই সম্পর্কে কিছু বলবেন কি?
অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান: এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা আমি সময়োপযোগি মনে করছি। কারণ মোবাইলের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এই বিকিরণ যেন দানবের মত, যার প্রভাবে মানবদেহে ভয়ানক রোগ হতে পারে। বিষয়টি ২০১১ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর ক্যান্সার রিসার্চ ( আইএআরসি) এবং ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অন নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রটেকশন (আইসিএনআইআরপি) এর সুপারিশ অনুযায়ী মানবদেহে মোবাইল ফোনের ক্ষতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। বিজ্ঞানীদের দীর্ঘ গবেষণায় এই ক্ষতির বিষয়টি জানা যায়। শুধু মোবাইল ফোন নয়, মোবাইল ফোনের টাওয়ার থেকেও ক্ষতিকর বিকীরণের বিস্তার ঘটছে বলে জানানো হয়। এটিকে আবার দুইভাগে বাগ করা হয়, একটি হচ্ছে থার্মাল এবং অন্যটি হচ্ছে নন-থার্মাল। থার্মাল প্রভাবের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর হচ্ছে নন-থার্মাল প্রভাব, যার ফলে দেহ কোষ, জিন এবং ডিএনএ’র বিন্যাস পর্যন্ত এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার হলে মাথাব্যাথা, নিদ্রাহীনতা, অমোনোযোগিতা, স্মৃতিবিভ্রম, কানের মধ্যে ভোঁ ভোঁ শব্দ অনুভূত হতে পারে। একইভাবে মোবাইল টাওয়ারে কাছাকাছি অবস্থান করলেও অনুরুপ সমস্যা এমনকি তার চেয়েও ভয়াবহ সমস্যা যেমন সন্তান জন্মদান ক্ষমতালোপ, আলঝিমারের মত সমস্যা, হৃদযন্ত্রে সমস্যা এমনকি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। অনেকে যে ছোট রাউটার দেখেন, সেটিও কিন্তু আরেকটি ছোট সেল টাওয়ার, সেটি থেকে বিকীরণ সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশমুভস : এই সমস্যা সমাধানে আমাদের কী করনীয় হতে পারে?
অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান: এ ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য কিছু ব্যবহারগত কৌশল অবলম্বন করতে হবে। যতটুকু সম্ভব মোবাইল ফোনে কম কথা বলতে হবে। আর যদি কথা বলতেই হয়, তবে দীর্ঘ কথোপকোথনের সময় ডান ও বাম কানে ঘুরিয়ে ব্যবহার করতে হবে। এছাড়া অনেক বার্তা এসএমএস করেও জানানো যায়, ফলে কথা বলার প্রয়োজন হয় না, এর ফলেও বিকীরণ থেকে শরীরকে সুরক্ষিত করা যায়। মোবাইল ফোনের উপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভর না করে কোন কোন ক্ষেত্রে ল্যান্ড ফোন লাইনও ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া স্পিকার ফোন বা কান থেকে দুরে রেখে তার দিয়েও কথা বলা যায়। মোবাইল ফোন যখন ব্যবহার করা হবে না তখন তা যতটা সম্ভব শরীর থেকে দুরে রাখা দরকার। ঘুমানোর সময় বালিশের নিচে মোবাইল রাখা আত্মঘাতি তৎপরতা ছাড়া আর কিছুই না। মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় স্পেসিফিক এবজরপশন রেট এর বিষয়টি খেয়াল রাখা দরকার। যে ফোনের এসএআর মূল্যমান ০.২-০.৮ ডব্লিউ/ কেজি, তা ব্যবহার করা উচিত।
যারা মোবাইল টাওয়ার বসান তাদের দায়িত্ব হচ্ছে এন্টিনার কোণ পরিবর্তন করে দিতে হবে। বাড়ির দিকে এন্টিনার বিম যাতে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এছাড়া ঢালের মত কিছু কৌশলও অবলম্বন করতে হবে। ফিল্ম সিল্ডিং কার্টেন বা পর্দা ব্যবহার করা যায়, লো পাওয়ার এন্টিনা ব্যবহার করা যায়।
বাংলাদেশমুভস : এই বিকীরণ সমস্যা সমাধানে ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনকে সম্পসারিত করা উচিত বলে কি আপনি মনে করেন?
অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান: হ্যাঁ, দরকার আছে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়টিকে হালকা করে দেখা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষীয় নজরদারী সুরক্ষিত করার জন্য ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা আইনে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত। অনেক দেশে ম্যাক্সিমাম পারমিসাবল ডোস চালু করে হাইফ্রিকোয়েন্সিকে সীমিত করার চেষ্টা করছে। ভয়ানক স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ঘটার আগে বাংলাদেশ সরকারকেও অনুরুপ আইন প্রনয়ন করা উচিত এবং সেই আইনের আওতায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মিত পরিবীক্ষণ করা দরকার। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশে আয়োনাইজিং রেডিয়েশন আইন প্রণয়ণ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ এটোমিক এনাার্জি কমিশন বাস্তবায়ন করে। ২০০৯ সালে ভারত সেফ এক্সপোজার নামে একটি বিশেষ আইন প্রনয়ন করেছে। ইন্টারন্যাশনাল কমিশন অব নন-আয়োনাইজিং রেডিয়েশন প্রোটেশন এর প্রনীত ২০০৯ সালের প্রনীত নীতিমালার যে শিথিল বাস্তবায়ন তা আরও বেগবান করতে হবে।

(সাক্ষাৎকার গ্রহন করেছেন ‍মুহাম্মদ শামীম আখতার)


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com