Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

বাংলা একাডেমী, ওসমান গনি অনুদিত বাংলার কৃষক কেন দিব্য প্রকাশে ?



12web

13web

3web

মুহাম্মদ শামীম আখতার, ২২ জুন, ২০১৭: দীর্ঘদিন ধরেই একাডেমী আলোচনার টেবিলে আসেনি। কয়েকদিন হলো ফেসবুকে শুনছি – ই, দীঘ-ই নিয়ে একটি বিতর্ক শুরু হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে বানান রীতি নিয়ে বাংলা একাডেমীর এই ফতোয়া আমার হাতে আসেনি। কারণ বাংলা একাডেমী আমার মত পেশাজীবী অনুবাদককে কোন দিন খুজে পায়নি। এই ক্ষোভ আমার আছে। যেমন না পাওয়ার ক্ষোভ এক সময় ১৯৭১ এর মত ঘটনা ঘটিয়ে দিয়েছিল। আমার আজকের বিষয় সেটি না। আমি বছর তিনেক আগে বাংলা একাডেমীসহ সচেতন মহলের কাছে জানতে চেয়েছিলাম এক সময়ে পিআইডির ডিরেক্টর ওসমান গনি হকের গ্রন্থ বাংলার কৃষক, যা দি পিজন্টস অব বাংলাদেশ , যা কলকাতার লেখক স্যার আজিজুল হকের লেখা গ্রন্তের অনুবাদ, বাংলা একাডেমী প্রকাশ করেছিল, সেই গ্রন্থটি কোথায়? আজও কোন উত্তর পাইনি।
উল্লেখ্য এই পান্ডলিপিটি বাংলা একাডেমী ওসমান গনির নিকট থেকে ২৯ ডিসেম্বর ১৯৮০ সালে ক্রয় করে এবং ডিসেম্বর ১৯৯২ সালে প্রকাশ করে। আমি এই গ্রন্থ প্রকাশের খবর জানতে পারি এবং ১৯৯৩ সালের দিক এই বইয়ের সৌজন্য কপি তার পরিবারের কাছে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করি। কিন্তু সেই গ্রন্থের কোন কপি আমার কাছে নেই, এবং পরিবারের কাছেও নেই। ওসমান গনির বড় ছেলে এক সময়ের ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিনের পিএস নাসিমুল গনি ওসমানী নাকে সেই গ্রন্থের কয়েকটি সংখ্যা জাতীয় সংসদের পাঠাগারে উপহার দেন। তাও উদ্ধার করা যায়নি। আমি বছর কয়েক আগে বাংলা একাডেমীতে যাই এবং গ্রন্থ তালিকা খুজেও সেই বইয়ের কোন খোঁজ পাইনি ।
কিন্তু স্যার আজিজুল হকের বইয়ের স্মৃতি মুছে দিয়ে ২০০৮ সালের জুন মাসে বাংলা একাডেমী ঢাকা রমেশ চন্দ্রের একটি ইংরেজী গ্রন্থ দি পিজেন্ট্রি অব বেঙ্গল – বাংলার কৃষক নামে বাংলায় গ্রন্থাকারে প্রকাশ করে। এই অনুদিত নাম ভুল, তবু ওসমান গনির বাংলার কৃষককে ল্যাং মারার জন্যই এই আয়োজন। প্রকৃতপক্ষে রমেশ চন্দ্রের দি পিজেন্ট্রি অব বেঙ্গল এর আক্ষরিক অনুবাদ হয় ‘ বাংলার কৃষি’ আর স্যার আজিজুল হকের দি ম্যান বাহাইন্ড দ্যা প্লা্উ এর আক্ষরিক অনুবাদ হয় বাংলার কৃষক (কারণ লাঙ্গলের পিছে তো কৃষকই থাকে) । রমেশ চন্দ্রের গ্রন্থটি বাংলায় অনুবাদ করেন কাজী ফারহানা আক্তার লিসা ও সাদাত উল্লাহ খান।
বাংলা একাডেমীর এই কাজকে একটি সাম্প্রদায়িক জিঘাংসা বলে অভিহিত করা যায়। কারণ ওসমান গনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক সংগ্রাম, দৈনিক মিল্লাত এবং দৈনিক আজাদ পত্রিকায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে আরোপিত সাম্প্রদায়িক চক্রের ভোঁতা যুক্তির দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতেন। কুলাঙ্গার দাউদ শিকদার তাকে একবার ইনকিলাবের আব্বা বলেও গাল দিয়েছিল।
পরে জানতে পারি একটি সাপ্তাহিকের সম্পাদক মইনুল আহসান সাবেরের বাংলা বাজারস্থ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দিব্য প্রকাশ ওসমান গনির সেই বাংলার ‍কৃষক গ্রন্থটি প্রকাশ করে। ফেসবুকে তার সাথে চ্যাটিং এর একপর্যায়ে তিনি গ্রন্থটি ওসমান গনির অনুদিত বলে স্বীকার করেন । প্রশ্ন হচ্ছে : বাংলা একাডেমীর বই বেসরকারী প্রকাশনা সংস্থার কাছে যায় কীভাবে? অনুসন্ধানে জানা গেছে বাংলা একাডেমীর কম্পোজার জনৈক আব্দুরি রহিম বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত গাজী শামসুর রহমানের আইন বিষয়ক বই থেকে বহু অংশ গুলিস্তানস্থ একটি বেসরকারী আইন বই প্রকাশকের গ্রন্থে কপি পেস্ট করে দিয়েছে । এখন গাজী শামসুর রহমানের গ্রন্থও বাংলা একাডেমীতে দুষ্প্রাপ্য।
এর নামে হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক স্খলন, চৌর্যবৃত্তি এবং সর্বোপরি সাম্প্রদায়িকতা।
বাংলা একাডেমী দীর্ঘ ই , নয় এমন জালিয়াতির ঘটনাগুলো বের করুন এবং রয়ের এই বাতিঘরটি অবিলম্বে বন্ধ করুন।

 

220px-The_Man_Behind_the_Plough-_Sir_Azizul_haque

 


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com