Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা আরসিবিসিকে ফেরত দিতেই হবে আইনমন্ত্রী



 

বাংলাদেশমুভস, ঢাকা, ০১ ডিসেম্বর, ২০১৬: বাংলাদেশের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের বাকি টাকা আরসিবিসিকে (রিজল কর্মশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন) ফেরত দিতেই হবে। গতরাতে ফিলিপিন্স ঘুরে এসে আজ বৃহস্পতিবার নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক এ কথা বলেন। গত শনিবার মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল ফিলিপিন্সে যায়।
ফিলিপিন্সের মন্ত্রিসভার দুই সদস্য এবং সিনেটের সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ফিলিপিন্স ও বাংলাদেশের বন্ধুত্ব অত্যন্ত গাঢ়, সে কারণে এই টাকা ফেরত দিতে যত প্রকারের সহযোগিতা ফিলিপিন্স সরকারের করা প্রয়োজন, বাংলাদেশ সরকারকে তারা সেই সহযোগিতা করবেন বলে আমাদেরকে কথায়, কাজে ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজে বুঝিয়েছেন। এই কথাও পরিষ্কারভাবে তারা বলেছেন, বাংলাদশের হয়ে এই অর্থ আদায়ের জন্য ফিলিপিন্স সরকার ও সিনেট লড়ে যাবে। তিনি আরো জানান, ওই টাকা আদায়ে ফিলিপিন্স সরকার আইনী ব্যবস্থা নিচ্ছে। ফিলিপিন্স সরকার আমাদের হয়েই সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এটার আরেকটা কারণ হচ্ছে এখানে ফিলিপিন্সের ক্রেডিবিলিটি ও তাদের ফাইন্যান্সিশিয়াল ইনস্টিটিউশনের ক্রেডিবিলিটি জড়িত। তিনি বলেন,আজকের পৃথিবীতে অ্যান্টি মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটা প্রয়োগ করার ব্যাপারেও সকল রাষ্ট্র অত্যন্ত সচেতন। সেই কারণেই এটার গুরুত্ব বুঝে ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা।
মন্ত্রী বলেন, সিনেটের শুনানির কারণে আরসিবিসির দায় নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়েছিল। সেই শুনানি শেষ হওয়ার আগেই ফিলিপিন্সে নির্বাচন হয়েছিল। সেই শুনানি পুনরায় শুরু করতে সিনেট সভাপতির নিকট প্রস্তাব দিলে তিনি তার অফিসকে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান মন্ত্রী। সিনেট সভাপতিকে উদ্বৃত করে মন্ত্রী বলেন, তিনি অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে বলেছেন, অন্যায়ভাবে কেউ লাভবান হোক, তাদের সরকার তা হতে দিবে না। অন্যায়ভাবে কারো অর্জিত আয়ের টাকা কেউ রেখে দিবে সেটাও ফিলিপিন্স সরকার হতে দেবে না।
ফিলিপিন্সের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার কথা থাকলেও সেখানকার একটি শহরে ‘মৌলবাদী সন্ত্রাসী দলের আক্রমণের কারণে রাষ্ট্রপতি ওই প্রদেশে চলে গেলে সেটা বাতিল হয়ে যায় বলে জানান আনিসুল হক।
এরপর ফিলিপিন্সের অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানেও আমরা আমাদের দাবি উত্থাপন করি। আমাদের দাবির সবচেয়ে বড় বিষয় ছিলো, ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই ঘটনায় অনেক নিয়ম ভাঙায় আরসিবিসিকে প্রশাসনিকভাবে দায়ী করেছিল, তাদের ওপরে ২১ মিলিয়ন ইউএস ডলার জরিমানা করেছিল। তার বিরুদ্ধে আরসিবিসি কোন আপিল না করে জরিমানা মেনে নিয়ে ১০ মিলিয়ন ইতোমধ্যে পরিশোধ করেছে। বাকী ১১ মিলিয়নও পরিশোধ করবে।তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য ছিল এই জরিমানা এবং জরিমানা পরিশোধ করার মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে প্রমাণিত হয়েছে, আরসিবিসি তার অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছে। সে কারণে তাদেরকে সম্পূর্ণ টাকা বাংলাদেশকে ফেরত দিতে হবে। এটাকে ফিলিপিন্সের অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত যুক্তি সঙ্গত বলেছেন। এই দাবির প্রেক্ষিতে আরসিবিসিকে এই টাকা পরিশোধ করার জন্য যত রকম আইনী এবং অন্যান্য প্রশাসনিক চাপ দেওয়ার দরকার, সেটা দিয়ে টাকা আদায় করতে বাংলাদেশের হয়ে তাদের সরকার ও মন্ত্রণালয় লড়বে।

সেই দেশের আইন প্রতিমন্ত্রী এবং মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গেও দেখা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ফিলিপিন্সে এই ব্যাপারে সরকার ও আরসিবিসি দুটো মামলা করেছে। একটায় ৬জন কর্মকর্তা, আরেকটায় দুই তিনজন আসামি আছেন। তিনি বলেন, আমি সেখানকার আইন প্রতিমন্ত্রীর সাথে আমি দেখা করেছি। আইনমন্ত্রী অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। চিফ প্রসিকিউটর ও মামলাগুলো যারা দেখছেন তাদের সাথে আমরা মামলার ব্যাপারে কথা বলি। আমরা সেখানেও আমাদের যুক্তি তুলে ধরি। আরসিবিসিকে টাকা ফেরত দিতেই হবে।

কী পরিমাণ টাকা ফেরত আসবে- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমার কথা ৬৬ মিলিয়নই আসবে। প্রথম কথা হচ্ছে, আমরা ফিলিপিন্সে আইনী লড়াই অব্যাহত রেখে যাবো, আমরা সরকারের সাথে আলাপ আলোচনা করছি, তারা যদি টাকা আদায়ে অন্য কোন পন্থা করে, সেখানেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।

আরসিবিসির সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, দায় স্বীকারের পর যদি বলে, আমরা দায় স্বীকার করছি না। তাহলে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তারা কেবল দায় স্বীকারই করে নাই, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তার জন্য নির্ধারিত সাজা হিসাবে ২১ মিলিয়ন ইউএস ডলারের ১০ মিলিয়ন দিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন,আরসিবিসি ভয় পাচ্ছে যে, তাদেরকে টাকাটা দিতে হবে। সেই জন্যই অনেক রকম গান তারা গাওয়া শুরু করেছে। এখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের কে কী দোষ করেছে, এটার সাথে সেটা সম্পৃক্ত নয়। তার কারণ হচ্ছে, চোরাই মাল এবং সেটা কোথায় গিয়ে ল্যান্ড করেছে, চোরাই মাল-জানা স্বত্ত্বেও তারা কী করেছে-সেটাই আরসিবিসির দোষ। সেই কারণেই আমরা বলছি, আরসিবিসিকে টাকা ফেরত দিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কে দোষী সেটা ভিন্ন ব্যাপার। ভিন্ন ব্যাপারের ব্যবস্থা ভিন্নভাবে করা হবে।


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com