Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

আল-কোরানের ১৯ নং সুরা মরিয়মের ৫৭ নং আয়াত এবং ১৯৫৭ সালে স্পুৎনিক-২ উপগ্রহের চন্দ্রে অবতরণ: বিস্ময়ের কিছু আছে কি?



??????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????????

 

মুহাম্মদ শামীম আখতার, বাংলাদেশমুভস, ৭ জিলহজ্ব, ১৪৩৭, ২৫ ভাদ্র, ১৪২৩, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬:  সুরা আল-কামারে মানুষের চন্দ্র অবতরণের বছর ১৯৬৯ এর ঈঙ্গিত আছে -এমন একটি লেখা পাঠকদের সামনে এর আগেই পেশ করা হয়েছে। মহাকাশ সম্পর্কিত অনুরূপ বিস্ময় লুক্কায়িত আছে আল-কোরানের সুরা মরিয়মে । সুরা মরিয়মের ১৯ নং সুরার ৫৭ নং আয়াত, যা ১৯:৭৫ হিসেবে লেখা যায়, এবং মাঝের চিহ্ন সরিয়ে ফেললে হয় ১৯৫৭। এবং বিস্ময়ের ব্যাপার হলো ১৯৫৭ সালেই সোভিয়েত রাশিয়ার স্পুৎনিক-২ উপগ্রহের চন্দ্রে অবতরণ হয়। এমন একটি বিস্ময়কর তথ্য দিয়েছেন
তুরস্কের গবেষক হারুন ইয়াহিয়া।www.miraclesofthequran.com প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই দাবী করেন। আমরা এখন সেই বিষয়টি নিয়েই কিঞ্চিত আলোচনা করবো।
যারা মহাকাশ নিয়ে অল্প বিস্তর পড়াশুনা করেছেন তারা জানেন গত শতাব্দীর মধ্যভাগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়া একে অন্যের উপর আধিপত্য বিস্তারের জন্য এক শীতল যুদ্ধে লিপ্ত হয়। সেই আধিপত্য বিস্তারের লড়াই কেবল পৃথিবী নামক ভূ-খন্ডের চৌহদ্দীতেই বন্দী ছিল না, তা বিস্তৃত হয়েছিল মহাকাশেও। সেই ধারায় গোটা ৫০ ও ৬০ এর দশক ছিল চন্দ্র বিজয়ের জন্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের বছর। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত রাশিয়া স্পুটপনিক-২ নামে একটি কৃত্রিম উপগ্রহে লাইকা নামক একটি কুকুরকে চাঁদে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়। এটি ছিল মহাকাশ যাত্রার মাইলফলক। এই ঘটনার পরবর্তী বছরগুলোতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষার অংশ হিসেবে মাহাকাশ নিয়ে গবেষণায় বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে এবং সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালে তারা মহাকাশে মানুষ প্রেরণ করতে সক্ষম হয়।

স্পুৎনিক-২ সম্পর্কে যৎকিঞ্চিত :

স্পুৎনিক শব্দটি রুশ শব্দ, যার আলঙ্করিক অর্থ হচ্ছে উপগ্রহ আর আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে সহযাত্রী। সোভিয়েত মহাকাশ কর্মসূচির আওতায় এই নামেই মহাকাশযানের নামকরণ করা হয়। স্পুৎনিক-১, স্পুৎনিক-২ এবং স্পুৎনিক-৩ নামে তিনটি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হয়। ১৯৫৭ সালের ৪ অক্টোবর রাশিয়া প্রথম সাফল্যের সাথে কৃত্রিম উপগ্রহ নিক্ষেপ করে। স্পুৎনিক-২ এক এর আকার ছিল ৫৬ সেমি গোলাকার, ওজন ছিল মাত্র ৮৩.৬ কেজি। পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল মাত্র ৯৮ মিনিট। কৃত্রিম উপগ্রহ নিক্ষেপের মাধ্যমে সামরিক, রাজনৈতিক, প্রাযুক্তিক এবং বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির এক নতুন অধ্যায় সূচনা হয়। এর ফলে মহাকাশ যুগের সূত্রপাত হয় এবং মার্কিন- রাশিয়া লিপ্ত মহাকাশ দখলে। মার্কিনীরা একে স্পুৎনিক সংকট বলে অভিহিত করে। কারন যে রকেট দিয়ে স্পুৎনিক উৎক্ষেপন করা হয়েছিল, সেই রকেট দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ যে কোন দেশেই পারমানবিক অস্ত্র নিক্ষেপ করা যেত। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে উৎপেক্ষণ যন্ত্রের দুরত্ব বিচারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করার মত কোন ক্ষেপণাস্ত্র ছিল না। ফলে এই রকেটের সফল উৎক্ষেপনের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুশ্চিন্তা বেড়ে যায়। স্পুৎনিক উৎক্ষেপন করার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এনডিইএ বা ন্যাশনাল ডিফেন্স এডুকেশন এক্ট বা জাতীয় প্রতিরক্ষা শিক্ষা আইন পাশ করে। চার বছর ব্যাপি এই কর্মুসূচিকে সফল করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার ব্যয় করে। এক হিসেবে কেবল ১৯৫৩ সালেই মার্কিন সরকার ১৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করে এবং কলেজগুলো সেই তহবিল থেকে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যবহার করে। ১৯৬০ সালের মধ্যে সেই তহবিলের পরিমান ছয়গুণ হয়। বলাবাহুল্য এভাবে আদা-পানি খেয়ে নামার ফলে ১৯৬৯ সালেই অ্যাপোলো প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথম চাঁদে মানুষ প্রেরণ করতে সক্ষম হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
মহাকাশে লাইকাকে যাত্রী করে মহাকাশে স্পুৎনিক প্রেরণের ফলে ব্রিটেন রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরব হয় । বিট্রেনের দৈনিক মিরর “THE DOG WILL DIE, WE CAN’T SAVE IT” ( কুকুর মারা যাবে, আমরা রক্ষা করতে পারলাম না।) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। কুকুর ইস্যুতে সমালোচনার কারণে ব্রিটেনে রাশিয়ার দুতাবাসে উৎসবের আমেজ শোকের আমেজে পরিণত হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টাইম পত্রিকাও বেশ ব্যঙ্গবিদ্রুপ করতে থাকে। স্পুৎনিককে তারা পুপনিক, পুসনিক, স্পাটপুপ এবং উফনিক ইত্যাদি ভাষা ব্যবহার করে আক্রমণ করে। এর ফলে এক রাশিয়ার কর্মকর্তা টাইমের বক্তব্যের বিপরীতে বলে “রুশীয়রা কুকুর ভালবাসে। কুকুরকে প্রেরণ করা হয়েছে নিষ্ঠুরতার জন্য নয়, বরং তাকে পাঠানো হয়েছে মানবতার কল্যানে।”

মস্কোর রাজপথে ভবঘুরে কুকুর: লাইকা হয়ে রাশিয়ার হিরো!

সোভিয়েত রাশিয়ার মস্কোর গলিগলিতে অনেক কুকুরই ঘুর ঘুর করতো তখন, কিন্তু মহাকাশ গবেষণায় দরকার পড়লো ছোট খাট এবং শান্ত প্রকৃতির একটি মাদী কুকুরের। খুঁেজ পাওয়া গেল ৬ কেজি ওজনের ছোট একটি মঙরিল কুকুরকে। ১৯৫৪ সালের দিকে তার জন্ম হয় বলে ধারনা করা হয়। কুকুরটির নাম দেওয়া হয় লাইকা। কুদরায়েভকা নামেও তাকে ডাকা হোত।
কুকুরকে মহাকাশে প্রেরণের একটি কারণ ছিল। কুকুরকে প্রশিক্ষণ দিলে দীর্ঘ যাত্রায় সে শান্তভাবে বসে থাকতে পারে প্রাণি বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হন। আর মাদী কুকুরের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে তারা একটু শান্ত প্রকৃতির এবং বিশেষ পোশাক পরালে মলমূত্র একটি পাত্রে জমা রাখা যায়। কুকুরকে প্রেরণের দ্বারা মানুষের উপর মহাকাশের পরিবেশের কী প্রতিক্রিয়া হতে পারে- তা আগাম বুঝার জন্যই এই ব্যবস্থা। ১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর যখন স্পুৎনিককে মহাকাশে প্রেরণ করা হয়, তার ঘন্টা খানেকের মধ্যে লাইকার মৃত্যু হয়। যদিও রুশ কর্তৃপক্ষ এই তথ্য ২০০২ সালে প্রকাশ করে। এর আগে তারা জানায় অক্সিজেনের অভাবে ৬ষ্ট দিনে লাইকার মৃত্যু হয়। উল্লেখ্য পাঁচ মাস পর, ২৫৭০টি আবর্তনের পর যখন ১৯৫৮ সালের ১৪ এপ্রিল পৃথিবীতে প্রবেশ করে, তখন স্পুৎনিকসহ লাইকার দেহাবশেষ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
তবে মহাকাশ মিশনে রাশিয়া কেবল লাইকাকে প্রেরণ করেনি । সূত্র মতে মোট ৩২ টি কুকুর মহাকাশে প্রেরিত হয়, যার মধ্যে ১৯৫১ সাল থেকে ১২ টি কুকুর সাব-অরবিটালে স্তর পর্যন্ত যায়।
লাইকের বিশেষত্ব ছিল তার বাহন স্পুৎনিকটিই সর্বপ্রথম চাঁদে পৌঁছাতে সক্ষম। এই সাফল্যের অংশীদার হওয়ার কারণে লাইক রাশিয়ার হিরোতে পরিণত হয়। ২০০৮ সালের ১১ এপ্রিল রুশ কর্তৃপক্ষ মস্কোর সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কাছে তার স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মান করে। দেশে দেশে অসংখ্য গল্প, ফিচার লেখা হয় লাইকাকে নিয়ে । এমনকি লাইকার ছবি দিয়ে রোমানিয়ার মত দেশ ডাক টিকিটও ছাপে।

১৯৫৭ সালে চাঁদে পৃথিবীর প্রাণির পদার্পন ও আল-কোরান

আল-কোরানের ১৯ নং সুরা -সুরা মরিয়মের ৫৭ নং আয়াতকে ১৯:৫৭ হিসেবে লেখার একটি রীতি আছে। এভাবে লিখে প্রথমটিকে সুরার কমে এবং দ্বিতীয়টিকে আয়াত বুঝানো হয়। এখন ১৯ আর ৫৭ এর মাঝখানের প্রতীকটি বাদ দিলে যা দাঁড়ায় তাহেচ্ছ ১৯৫৭। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সেই ১৯৫৭ সাল যে বছর বনি আদমের চেষ্টায় লাইকা নামক কুকুরটি চন্দ্রে বা মহাকাশে প্রেরিত হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে এই সালটি সুরা মরিয়মে বর্ণিত হয়েছে, যার সাথে খ্রীস্টিয় বা ঈশায়ী শতকের একটি যোগসূত্র রয়েছে। কারণ হযরত ইশা আ. ছিলেন মরিয়ম আ. এর পুত্র।
এখন সুরা মরিয়মের ৫৭ নং সুরার অর্থ বলি
“আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।” (সুরা মরিয়ম, আয়াত-৫৭) (১৯:৫৭)
এই আয়াতে একজনকে উচুঁতে উঠিয়ে নেবার কথা আছে। এই আয়াতের আগে বা সামনের আয়াতগুলো না পড়লেও একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট যে এখানে কাউকে নিচ থেকে উপরে উঠানোর কথা বলা হয়েছে। এটি কোন ব্যক্তি/ বস্তু/ প্রাণিকে নিচ থেকে উপরে উঠানোর কথা হতে পারে অথবা কোন ব্যক্তি/বস্তু/ প্রাণির মর্যাদা সমুন্নত করার কথাও হতে পারে। হতে পারে হযরত ইসা আ. কে আল্লাহ উপরে উঠিয়ে নিয়েছিলেন। কিন্তু পূর্ববর্তী আয়াত বিবেচনা করলে এটি ইদ্রিস আ. কেই ইঙ্গিত করা হয়ে থাকতে পারে। lunar_eclipse_al-biruni-650x458
আমরা যদি এই আয়াতের কথা একটু ভিন্নভাবে বলি যে ১৯৫৭ সালে লাইক নামক একটি কুকুরকে উঁচুতে উঠিয়েছিলেন, অথবা লাইকা নামক কুকুরের মান মর্যাদা উঁচুতে উঠিয়ে দিয়েছিলেন, তাও হতে পারে। এই দুইটি ঘটনাই সত্য। ১৯৫৭ সালে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন শীতল যুদ্ধে লিপ্ত, তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন তার বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি প্রমাণের জন্য তাদের বিদেশী মিশনগুলোর মাধ্যমে কোটি কোটি রুবল খরচ করে ম্যাগাজিন, পুস্তিকা, শিশুতোষ বই এর মাধ্যমে লাইকা নামক কুকুরকে যেভাবে প্রচার করেছে, তাতে ৬০, ৭০, ৮০ , ৯০ এর দশক অবধি সমাজতন্ত্র যতদিন কিছু মানুষের ধ্যানজ্ঞান ছিল, যারা মস্কোতে বৃষ্টি হলে দেশে দেশে ছাতা ধরতো, তাদের কাছে লাইকা কুকুর ছিল- একটি সুপরিচিত নাম। একটি রকেটের আলোয় মুখ বের করা লাইকার চাররঙ্গা এনিমেশনগুলো শিশুদের মানসলোকে এখনও উঁকি মারে। আমার তো মনে আছে আমি আমার আব্বাকে লাইকার বই আনতে বলতাম। তিনি খুলনার কেডি ঘোষ রোড থেকে তা এনে দিতেন। সমাজতন্ত্রের মুরিদদের হাতে হাতেও সেই বইগুলো শোভা পেত। অনেকটাই নষ্টালজিক ব্যাপার স্যাপার!
লাইকার এই উচুঁ অবস্থান যেন সুরা ক্বাহফের সেই বিশ্বাসী যুবকদের সাথে থাকা কুকুরটির মত, যে কুকুরটির কথা খোদ কোরানেই আছে, কারণ ক্ষুদ্র মশার উদাহরণ দিতেও আল্লাহ কোন লজ্জা বোধ করেন না।
সুরা আল-বাকারার ২৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
“(সত্য প্রমাণের জন্য) আল্লাহতায়ালা মশা কিংবা তার চাইতে ওপরের কিংবা তার চাইতে ওপরের কিছুর উদাহরণ দিতে লজ্জাবোধ করেন না।.. ”
অর্থাৎ তিনি তার কোন নিদর্শন দেখানোর প্রিয়জন হলে কুকুরকে সংশ্লিষ্ট করবেন- এটা আল্লাহর ইচ্ছার ব্যাপার। যেমন আল্লাহ সুরা আল-কাহাফে কুকুরের কথা উল্লেখ করেছেন,
“তুমি মনে করবে তারা জাগ্রত, অথচ তারা নিদ্রিত। আমি তাদেরকে পার্শ্ব পরিবর্তন করাই ডান দিকে ও বাম দিকে। তাদের কুকুর ছিল সামনের পা দুটি গুহাদ্বারে প্রসারিত করে। যদি তুমি উঁকি দিয়ে তাদেরকে দেখতে, তবে পেছন ফিরে পলায়ন করতে এবং তাদের ভয়ে আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়তে।” (সুরা আল-কাহাফ, আয়াত-১৮] [১৮:১৮]
প্রাসঙ্গিক বলেই আয়াতটি বলছি
“নিশ্চয় আমি এ কোরআনে মানুষকে নানাভাবে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বুঝিয়েছি। মানুষ সব বস্তু থেকে অধিক তর্কপ্রিয়।” ( সুরা আল-কাহাফ, আয়াত ৫৪) [ ১৮:৫৪]
এখন কুকুর নিয়ে যদি আলোচনা নাও করি, তবু সুরা মরিয়মের আলোচ্য ৫৭ নং আয়াতের পূর্বের ৫৬ নং আয়াতের প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করি। কী বলা হচ্ছে ৫৬ নং আয়াতে:
“এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী।” (সুরা মরিয়ম, আয়াত-৫৬) (১৯:৫৬)
তাহলে ৫৬ ও ৫৭ একসাথে করে বললে, “এই কিতাবে ইদ্রীসের কথা আলোচনা করুন, তিনি ছিলেন সত্যবাদী নবী। আমি তাকে উচ্চে উন্নীত করেছিলাম।”
অর্থাৎ এই দুই আয়াতেই হযরত ইদ্রিস আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা বলা হয়েছে। সমগ্র কোরানে যেখানে ইউসুফ আ. কে নিয়ে একটি পূর্নাঙ্গ সুরা হলো, সুরা বাকারায় মুসা আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে কথা হলো, আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহিওয়াসাল্লামকে নিয়ে একটি সুরা মুহাম্মদ হলো, সুরা মরিয়মকে নিয়ে সুরা মরিয়ম হলো, সেখানে কেন ইদ্রিস আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিয়ে সুরা মারিয়াম এবং সুরা আন নবীতে (২১:৮৫) মাত্র কয়েকটি আয়াতে তার উপর বর্ণনা এলো? সত্যিই বিস্ময়কর। দুনিয়ার পরীক্ষা ক্ষেত্রে এটিই বুঝি ছিল বিজ্ঞান পরীক্ষার প্রাকটিল এজেন্ডা। হ্যাঁ, এই আয়াতেই ইদ্রিস আ. এর মহাকাশে উর্ধ্বারোহনের ইঙ্গত আছে, যা আল্লাহর রাসুল সা. বলে গিয়েছিলেন এবং ইদ্রিস আ. এর বিষয়টিই এই উম্মতের জন্য সবচেয়ে গবেষণালব্ধ বিষয়।
taqi_al_dinআল-কোরান চিন্তাশীল সম্প্রদায় হিসেবে একটি শ্রেণিকে চিহ্নিত করেছেন, অনেক ক্ষেত্রে চিন্তাশীলদের আগে মুত্তাকীও বলেননি, কাফেরও বলেন নি। তিনি বলেছেন – নিশ্চয় চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শন রয়েছে। সেই চিন্তাশীল লোকরা নাস্তিক হতে পারে, হতে পারে আস্তিক -আল্লাহপাক সেই চিন্তাশীলদের দিয়েই মহাকাশে আরোহনের বিষয়টি ফয়সালা করলেন, যা ১৯৫৭ সালে ঘটেছিল, যেখানেই ১৯ এর একটি খেলা স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান- যাতে আল্লাহর ঘোষণার সাথে কোন সাংঘর্ষিক কিছু ছিল না। সুরা আল-বাকারায় আল্লাহ ইরশাদ করেন,
“নিশ্চয়ই আসমান ও যমীনের সৃষ্টিতে, রাত ও দিনের বিবর্তনে এবং নদীতে নৌকাসমূহের চলাচলে মানুষের জন্য কল্যাণ রয়েছে। আর আল্লাহ তা’ আলা আকাশ থেকে যে পানি নাযিল করেছেন, তদ্বারা মৃত যমীনকে সজীব করে তুলেছেন এবং তাতে ছড়িয়ে দিয়েছেন সবরকম জীব-জন্তু আর আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং মেঘমালার যা তাঁরই হুকুমের অধীনে আসমান ও যমীনের মাঝে বিচরণ করে, নিশ্চয়ই সে সমস্ত বিষয়ের মাঝে নিদর্শন রয়েছে বুদ্ধিমান সম্প্রদায়ের জন্যে।” ( সুরা বাকারা, আয়াত -১৬৪) [২:১৬৪]
“তুমি কি দেখনি যে, আল্লাহ আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেছেন, অতঃপর সে পানি যমীনের ঝর্ণাসমূহে প্রবাহিত করেছেন, এরপর তদ্দ্বারা বিভিন্ন রঙের ফসল উৎপন্ন করেন, অতঃপর তা শুকিয়ে যায়, ফলে তোমরা তা পীতবর্ণ দেখতে পাও। এরপর আল্লাহ তাকে খড়-কুটায় পরিণত করে দেন। নিশ্চয় এতে বুদ্ধিমানদের জন্যে উপদেশ রয়েছে।” [ সুরা আঝ-ঝুমার, আয়াত ২১]
“এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকত হিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসূহ লক্ষ্য করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে।” (সুরা ছোয়াদ, আয়াত ২৯) [ ৩৮:২৯]
সুরা ইউনুসে আল্লাহ বলেন,
“তিনিই সে মহান সত্তা, যিনি বানিয়েছেন সুর্যকে উজ্জল আলোকময়, আর চন্দ্রকে স্নিগ্ধ আলো বিতরণকারীরূপে এবং অতঃপর নির্ধারিত করেছেন এর জন্য মনযিল সমূহ, যাতে করে তোমরা চিনতে পার বছরগুলোর সংখ্যা ও হিসাব। আল্লাহ এই সমস্ত কিছু এমনিতেই সৃষ্টি করেননি, কিন্তু যথার্থতার সাথে। তিনি প্রকাশ করেন লক্ষণসমূহ সে সমস্ত লোকের জন্য যাদের জ্ঞান আছে। নিশ্চয়ই রাত-দিনের পরিবর্তনের মাঝে এবং যা কিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন আসমান ও যমীনে, সবই হল নিদর্শন সেসব লোকের জন্য যারা ভয় করে।” ( সুরা ইউনুস, আয়াত ৫-৬) [ ১০:৫-৬]
আল্লাহ ইরশাদ করেন,
“তিনিই তোমাদের জন্য নক্ষত্রপুঞ্জ সৃজন করেছেন যাতে তোমরা স্থল ও জলের অন্ধকারে পথ প্রাপ্ত হও। নিশ্চয় যারা জ্ঞানী তাদের জন্যে আমি নির্দেশনাবলী বিস্তারিত বর্ণনা করে দিয়েছি। তিনিই তোমাদের কে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন। অনন্তর একটি হচ্ছে তোমাদের স্থায়ী ঠিকানা ও একটি হচ্ছে গচ্ছিত স্থল। নিশ্চয় আমি প্রমাণাদি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি তাদের জন্যে, যারা চিন্তা করে।” ( সুরা আল-আনআম, আয়াত ৯৭-৯৮)
এভাবে সুরা আন-আমে ৯৭ ও ৯৮ আয়াতে পরিনামদর্শী লোক ও জ্ঞানীদের উল্লেখ করে আল্লাহ সুরা আল-আন-আমের ৯৯ নং আয়াতে কেবল ঈমানদারদের কথা বলেছেন। এটিই কেবল ব্যতিক্রম।
“.. .. বিভিন্ন গাছের ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন সেগুলো ফলন্ত হয় এবং তার পরিপক্কতার প্রতি লক্ষ্য কর। নিশ্চয় এ গুলোতে নিদর্শন রয়েছে ঈমানদারদের জন্যে।” (সুরা আল-আন-আম-৯৯)
“তারা কি দেখে না যে, আমি রাত্রি সৃষ্টি করেছি তাদের বিশ্রামের জন্যে এবং দিনকে করেছি আলোকময়। নিশ্চয় এতে ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শনাবলী রয়েছে।” ( সুরা আন-নামল, আয়াত-৮৬) [২৭: ৮৬]
সুরা আন-নাহলে আল্লাহ ইরশাদ করেন,
“এরপর সর্বপ্রকার ফল থেকে ভক্ষণ কর এবং আপন পালনকর্তার উম্মুক্ত পথ সমূহে চলমান হও। তার পেট থেকে বিভিন্ন রঙে পানীয় নির্গত হয়। তাতে মানুষের জন্যে রয়েছে রোগের প্রতিকার। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।” ( সুরা আন-নাহল, আয়াত ৬৯) [ ১৬:৬৯
সুরা বাকারায় আল্লাহ আরও ইরশাদ করেন, “
“তিনি যাকে ইচ্ছা বিশেষ জ্ঞান দান করেন এবং যাকে বিশেষ জ্ঞান দান করা হয়, সে প্রভুত কল্যাণকর বস্তু প্রাপ্ত হয়। উপদেশ তারাই গ্রহণ করে, যারা জ্ঞানবান।” ( সুরা বাকারা, আয়াত-২৬৯) [২: ২৬৯]
সুুরা বাকারার ২৬৯ নং আয়াতে আল্লাহ যে বিজ্ঞান দান করার বিষটি উল্লেখ করেছে, তা যে কেবল মুমীনদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তা বলা হয়নি, সে কাফেরও হতে পারে। এখানে জ্ঞানবান শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। যদিও চুড়ান্তভাবে আল্লাহ বিশ্বাসীই প্রকৃত জ্ঞানবান।
“তারা কি ভুপৃষ্ঠের প্রতি দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে সর্বপ্রকার বিশেষ-বস্তুকে উদগত করেছি। নিশ্চয় এতে নিদর্শন আছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাসী নয়।” (সুরা আশ-শোয়ারা, আয়াত-৭-৮) [২৬:৭-৮]
আল্লাহ সুরা নিসাতে বলছেন,
“এরা কি কোরান (নিয়ে চিন্তা) গবেষণা করেনা? এই (গ্রন্থ) যদি আল্লাহ তায়ালা ছাড়া অন্য কারও কাছ থেকে আসতো তাহলে তাতে অবশ্যই অনেক গরমিল দেখতে পেতো।” (সুরা আন-নেসা, আয়াত ৮২) [৪:৮২]
এই আয়াতেও প্রমাণিত হচ্ছে কোরান নিয়ে চিন্তা গবেষণা করা দরকার এবং এর মধ্যে কোন গড়মিল নেই।
এখন ইদ্রিস আ. এর সম্পর্কে যে হাদীস পাওয়া যায়, তা থেকে জানতে পারি, তাকে আল্লাহপাক মৃত্যু ছাড়া চতুর্থ আসমানে মালায়েকদের সাহায্যে উঠিয়ে নেন, এবং আল্লাহর শেষ রাসুল যখন মিরাজে গেলেন, তখন চতুর্থ আসমানে তিনি ইদ্রিস আ. এর সাথে দেখা করেন। আরেকটি বর্ণনা থেকে জানা যায়, ইদ্রিস আলাইহি ওয়াসাল্লামের রুহ কবজ হয়, এবং তা করা হয় চতুর্থ আসমানে। প্রশ্ন হচ্ছে : রুহ কবজ করা হলে তার সাথে দেখা করা গেল কীভাবে? দেখাতো আদম আ., ঈসা আ., মুসা আ., ইদ্রিস আ., ইউসুফ আ., হারুন আ. এবং ইবরাহীম আ. এর সাথেও হয়েছিল । এঁদের মধ্যে মুসা (আ.), ইউসুফ (আ.) এবং আদম (আ.), হারুন আ., ইয়াহিয়া আ., ইব্রাহীম আ.- এর রুহ তো দুনিয়াতে কবজ হয়, তাহলে তাদের সাথে কীভাবে দেখা করা গেল, এবং তারা সকলেই কীভাবে বায়তুল মাকদাসে সালাত আদায় করলেন? এই বিষয়গুলো সময়ের বাঁকে বাঁকে মানুষ জানতে পারবে।
আচ্ছা একবার ভাবুন তো, ইসা আ. তো দুনিয়ায় আসবেন- তিনি তো ততদিন জান্নাতে ছিলেন, তিনি কি জান্নাতের তথ্য দুনিয়াবাসীকে জানাবেন না? নিশ্চয়ই জানাবেন। তিনি রবিনসন ক্রুসোর মত সেই অজানা দ্বীপে দিনরাত যাপনের কাহিনী বলবেনই। এভাবেই আল্লাহ তার পয়গম্বরের মাধ্যমে সৃষ্টি রহস্য একে একে খুলে বলবেন এবং নিজেকে বিচার দিনের পরে জান্নাতীদের সামনে পূর্ণিমার চাঁদের মত আত্মপ্রকাশ করবেন। দু:খ লাগে সেইসব অভাগাদের নিয়ে যারা শত শত বছর আগে আল্লাহকে খুঁজতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে হতাশ হয়ে দাবী করেছিল সে নিজেই আল্লাহ। তারা যে কত জাহিল ছিল, তা শুধু তাদের সবরের অভাব থেকেই প্রমাণিত হবে। ইসা আ. এর আগমনের পরে সে জন্যই মানুষদের আর দুনিয়ার প্রতি মায়া থাকবে না, কারণ যারা ডিভি ভিসা পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস আর নিউইয়ার্কের লালনীল বাতি দেখে প্রাণ জুড়াতে বিভোর তাদের কাছে মিরপুর-গুলিস্তানে বাসে ঝুলে চলায় তেমন কোন আগ্রহ থাকে না ! আর জান্নাত তো সে এক অকল্পনীয় স্থানের নাম- যে জান্নাত সম্পর্কে বর্ণনা অল্প কথায় কিন্তু পূর্নাঙ্গ অবয়বে: “চোখ যা প্রত্যক্ষ করেনি, অন্তর যা অনুভব করেনি!” সেখানে তো মানুষ অন্ধভাবেই যেতে চাইবে। এ প্রসঙ্গে হযরত আবু হুরায়রা রা. এর একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে।
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল মুহাম্মদ সাল্লালাহু আলাইহিওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, “যার হাতে আমার আত্মা তার কসম, মরিয়মের ( আ.) পুত্র শীঘ্রই তোমাদের মধ্যে ন্যায়পরায়ন শাসক হিসেবে অবতরণ করবেন, তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে দেবেন, শুকর হত্যা করবেন, যিজিয়া কর অবলুপ্ত করবেন, উটের বাছুর একা ঘুরতে থাকবে এবং কেউই তার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করবে না, বিদ্বেষ, পারস্পরিক ঘৃণা এবং কোন হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না। যখন তাদেরকে ( লোকজনকে) সম্পদ নেওয়ার জন্য আহ্বান করা হবে, কেউই তা গ্রহণ করবে না।”
এর মানে হচ্ছে এক সম্পদের সমবন্টনের কারনে মানুষের মধ্যে সম্পদের কোন মোহ থাকবে না, অথবা তারা জান্নাতের সুসংবাদ পেয়ে দুনিয়ার ক্ষুদ্র প্রাপ্তি নিয়ে মাথা ঘামাবে না।
তাহলে যা দাঁড়াচ্ছে সুরা মরিয়মের ক্রম ১৯ এবং ৫৭ নং আয়াতে উঁচুতে উন্নীত করার প্রসঙ্গটি একটি অনাগত কালের অব্যক্ত তথ্যের আগাম ইঙ্গিত।
আরেকটি বিষয় বোঝার আছে – আমাদের ধারণা এই পৃথিবীতে জান কবজ হলেই তার মৃত্যু হবে – কিন্তু ইদ্রিস আ. নামক বনি আদম এর মৃত্যু যদি চতুর্থ আসমানে হয়, তাহলে এই এ কথা বলা অসঙ্গত নয় যে, মানুষ চতুর্থ আসমানে যেতে পারবে এবং সেটিও তাদের জন্য একটি অধিক্ষেত্র হবে, যেমন এক সময় অস্ট্রেলিয়া মহাদেশ বা উত্তর মেরু দক্ষিণ মেরু, বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছিল মানুষের জন্য একটি অনাবিষ্কৃত ভু-খন্ড, এবং বর্তমানে যে সকল ভুখন্ড এখন প্রাচীন সভ্যতার পাদপীঠগুলোর চেয়েও অনেকের কাছে বেশি প্রত্যাশিত, সেখানে গিয়েও তার রুহ কবজ হবে এবং সেখানেই তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করানো হবে। সুরা আল-ক্বামারের ৩ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, “তারা সত্যকে অস্বীকার করে এবং নিজেদের খেয়াল খুশীর অনুসরণ করে চলে, (অথচ) প্রত্যেকটি কাজ তার সুনির্দিষ্ট পরিণাম পর্যন্ত পৌছুবেই।” ( সুরা আল-ক্বামার, আয়াত-৩) [ ৫৫:৩] এখানেও দেখেন (৫৫+৩) = ৫৮।
এই উত্তরণ সবই আল্লাহর হুকুমে ঘটছে, এবং উর্ধ্বাকাশের প্রতিটি দরজা এভাবেই খুলতে থাকবে আর মানুষ তার রবের মহিমা দেখে শুধু মুগ্ধ হবে এবং তার দৃষ্টি বার বার ফিরে ফিরে আসবে। আল্লাহপাক সুরা আল-মুলকের ৩-৫ নং আয়াতে বলেন, “তিনি সপ্ত আকাশ স্তরে স্তরে সৃষ্টি করেছেন। তুমি করুণাময় আল্লাহ তা’আলার সৃষ্টিতে কোন তফাত দেখতে পাবে না। আবার দৃষ্টিফেরাও; কোন ফাটল দেখতে পাও কি? অতঃপর তুমি বার বার তাঁকিয়ে দেখ-তোমার দৃষ্টি ব্যর্থ ও পরিশ্রান্ত হয়ে তোমার দিকে ফিরে আসবে। আমি সর্বনিম্ন আকাশকে প্রদীপমালা দ্বারা সুসজ্জিত করেছি; সেগুলোকে শয়তানদের জন্যে ক্ষেপণাস্ত্রবৎ করেছি এবং প্রস্তুত করে রেখেছি তাদের জন্যে জলন্ত অগ্নির শাস্তি।”
এই আয়াতে তিনি মানব জাতিকে আল্লাহ তায়ালাই মহাকাশকে দেখতে দাওয়াত দিচ্ছেন। এই দাওয়াতে তো মুসলমানরাই একসময় সাড়া দিয়েছিলেন। একসময় মহাকাশ গবেষণার জন্য বিভিন্ন অবজারভেটরি তো ইরাক ইরান কর্ডোভাতে মুসলমানরাই তৈরী করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায়ই তো ইউরোপীয় খ্রীস্টান ( যাদেরক আল্লাহর রাসুল রোমক বলেছেন) মহাকাশ জয় করেছে, যা কোন বিচ্ছিন্ন ব্যাপার নয়।

মহাকাশ জয়ের মর্তবা কাফেরদেরকে দেওয়া হয়েছে কেন?

বিষয়টিকে আরেকভাবেও চিন্তা করা যায়। সহজেই অনুমেয় মহাবিশ্ব যতই উন্মুক্ত হবে- ততই মানুষ ধন দৌলতের অধিকারী হবে। কারণ সোনা রুপা, তেল আর মূল্যবান ঘাঁটিতো মহাবিশ্বের গ্রহ,নক্ষত্রে। এখন প্রশ্ন হতে পারে ১৯৫৭ সালের এই মহাকাশ যাত্রার মর্তবা কেন একজন মুমীনকে না দিয়ে কাফেরকে দেওয়া হলো? এরপক্ষেও দলিল আছে খোদ আল-কোরানে।
আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, “.. আল্লাহ যদি মানব জাতির একদলকে অপর দল দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তবে (খ্রীস্টানদের) নির্জন গীর্জা, এবাদতখানা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং মসজিদসমূহ বিধ্বস্ত হয়ে যেত, যেগুলোতে আল্লাহর নাম অধিক স্মরণ করা হয়। আল্লাহ নিশ্চয়ই তাদেরকে সাহায্য করবেন, যারা আল্লাহর সাহায্য করে। নিশ্চয়ই আল্লাহ পরাক্রমশালী শক্তিধর।” (সুরা হজ্ব, আয়াত-৪১) [ ২২: ৪০]
সুরা বাকারায় আল্লাহ বলেন,
“আল্লাহ যদি একজনকে অপরজনের দ্বারা প্রতিহত না করতেন, তাহলে গোটা দুনিয়া বিধ্বস্ত হয়ে যেতো। কিন্তু বিশ্ববাসীর প্রতি আল্লাহ্ একান্তই দয়ালু, করুণাময়।” (সুরা বাকারা- আয়াত ২৫১) [ ২: ২৫১]
এই আয়াতগুলোতে প্রমাণিত হচ্ছে যে, আল্লাহ তার সুবিবেচনায় মুসলমানদের উপর খ্রীস্টানের প্রাধান্য দিতে পারেন এবং খ্রীস্টানদের উপর মুসলমানদের, ইহুদীর উপর মুসলমানদের। এটা এই দুনিয়ার ফয়সালা। যদি আল্লাহর রাসুলের হাদিস হয় মুমীনদের জন্য দুনিয়া জেলখানা, তাহলে এই প্রাধান্যের বিষয়টি হতেই পারে।
আল্লাহ সুরা হিজরে বলছেন, “তাদের অন্তরে যে ক্রোধ ছিল, আমি তা দুর করে দেব। তারা ভাই ভাইয়ের মত থাকবে।” ( সুরা হিজর, আয়াত ৪৭ )
এটি হবে বেহেশতে গেলে মুমীনদের অন্তরের অবস্থা। এটা এ জন্য বললাম বর্তমান দুনিয়ায় মানুষের যে চারিত্রিক সীমাবদ্ধতা তা আল্লাহরই আপতিত, যা জান্নাতে গেলে থাকবে না।
সুরা আল-বাকারার আল্লাহ বলেন, “ .. যে ব্যক্তি (আমাকে) অস্বীকার করবে, তাকেও আমি অল্প কয়েকদিনের জীবনের উপায় উপকরণ সরবরাহ করতে থাকবো..” (সুরা বাকারা, আয়াত ১২৬) [ ২: ১২৬]
আল-বাকারার এই আয়াতেও এটি প্রমাণিত হচ্ছে এই দুনিয়ায় আল্লাহ নাস্তিকদেরও জীবনের উপকরণ সরবরাহ করবেন, মহাকাশের একটি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পথ খুলে দেওয়া তো আল্লাহর ওয়াদারই অংশ। একই ওয়াদা আছে সুরা বনী ইসরাইলের ২০-২১ আয়াতে: ইরশাদ হচ্ছে:
“(হে নবী) আমি তাদের (যারা দুনিয়া চায়) এবং ওদের (যারা আখেরাত চায়) সবাইকে তোমার মালিকের দান থেকে সাহায্য করে যাচ্ছি এবং তোমার মালিকের দান কারও জন্য বন্ধ নয়। ” (সুরা বনী ইসরাইল, আয়াত ২০) [ ১৭:২০]

শেষ কথা:

আল-কোরান হচ্ছে একটি গোলাপের মত। এর একটি পাপড়ি খুললে একটি অনিন্দ্য সুন্দর রুপ দেখা যায়, এভাবে যত পাপড়ি খোলা হয়, ততই তার রুপ মাধুর্য্য প্রকাশ পায়। কোরান হচ্ছে জীবন্ত মুজীযা, এবং এটি একটি বিজ্ঞানময় গ্রন্থও বটে। হক আর বাতিলের পার্থক্যকারীও আল-কোরান। সত্য আর মিথ্যার মধ্যে সত্য প্রকাশের একটি গ্রন্থ হচ্ছে আল-কোরান । একই সাথে এটি মানুষের জন্য হেদায়তের গ্রন্থও। আল-কোরানের উপর সুদৃঢ় থাকার উপর মানব কল্যান। অধিকন্তু আল-কোরানে বর্ণিত সকল তথ্য সঠিক এবং বিজ্ঞানবিষয়ক তথ্যগুলো ১৪ শত বছর পরও নির্ভুল বলে প্রমাণিত । যারা জ্ঞান বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন, তারা কোরানের এই অলৌকিকত্বের নির্যাস থেকে নিজেকে বঞ্চিত রাখতে চান না, ফলে তারা আল-কোরানের অনেক বিস্ময়কর তথ্য আবিষ্কার করতে সক্ষম হন। ১৯ নং সুরা মরিয়মের ৫৭ নং আয়াত কে ১৯৫৭ ধরে চন্দ্রে স্পুৎনিক প্রেরণের বছর ১৯৫৭ সালের মধ্যে একটি সম্পর্ক খুুঁজে পেয়েছেন। তুরস্কের লেখক হারুন ইয়াহিয়ার গবেষণা পত্রে এই তথ্য দিয়ে তিনি সবকিছুর জন্য নিজের অক্ষমতা প্রকাশ করেছেন। আমরাও তাই করি এবং আল্লাহই বিষয়টি ভাল জানেন – বলে আমাদের অক্ষমতা প্রকাশ করছি। শব্দ: ৩৩৩৩
তথ্যসূত্র:


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com