Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player

অন্তরের বিষক্রিয়া এবং রোহিঙ্গা গণহত্যা 


Burma
মুহাম্মদ শামীম আখতার, বাংলাদেশমুভস, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭: আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশবিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের স্নাতকোত্তর । ব্যক্তিগত জীবনে দলীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত না থাকলেও আমি মনে করি আল্লাহ ও তার রাসুলের মদীনা ও মক্কায় প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক, সামাজিক ও জীবন ব্যবস্থা একটি প্রমিত ও কল্যাণকর ব্যবস্থা। যিনি সৃষ্টিকর্তা তিনি হচ্ছেন সকলের পালনকর্তা, তিনি বিধানদাতা এবং সঙ্গতকারণে আইন দাতাও আল্লাহ । অপরদিকে বাস্তবের বাংলাদেশ, যেখানে আমার বাস এবং যে দুনিয়ায় আমার নিত্য চলাচল, সেখানে এ আদর্শটি শতভাগ গ্রহণীয় হয়নি, ফলে এখানে একটি সংকট সৃষ্টি হয়েছে, যে সংকটটি আমি ব্যক্তিগতভাবে অনুভব করি, অনুভব করেন সমমনা অনেকে। একদিকে কুরআন ও আল্লাহর রাসূল সা. এবং অপরদিকে তার বিপরীত আদর্শ। বস্তুতঃ এ সংঘাতটি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত ভয়াবহতা পেয়েছে, বিশেষ করে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী যারা মুসলমান এবং কিছু হিন্দু – ভয়াবহ রকম মানবীয় নৃশংসতার শিকার হয়েছেন। বর্তমান মানব সভ্যতা এমন নির্মম গণহত্যায় শুধু বিস্মিত হয়নি, তারা নিজেদের অস্তিত্ব নিয়েও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধে মানুষ হত্যা হয়েছে, কিন্তু মানুষকে জবেহ করে তাদের রান্না করার ইতিহাস বুঝি মিয়ানমারের গণহত্যার কুশিলবরাই করে দেখিয়েছেন। একে আমি বলছি : অন্তরের বিষক্রিয়া। আমরা দেহে বিষক্রিয়ার কথা শুনেছি, কিন্তু দেহ ঠিক থাকার পরও কেবল অন্তরে বিষক্রিয়া হলে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া হয়? যে প্রতিক্রিয়া হয়, সেটিই হয়েছে মিয়ানমারে। মানুষ একটি অভিন্ন সত্তা হলেও এ সত্তা প্রতিনিয়ত দু’টি শক্তি দ্বারা প্রভাহিত হয়। একটি হচ্ছে : আগুনের শক্তি; আরেকটি হচ্ছে আলোর শক্তি। আগুনের শক্তিটি হচ্ছে একটি বিশেষ জ্বিন, যাকে ইবলিস বলে। বিপরীত শক্তি হচ্ছে নুর বা আলোর শক্তি, যার পুরোভাগে মালায়েক। ইবলিস আগুনের তৈরী, আল্লাহর অবাধ্য এবং কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর বান্দাকে বিপথগামী করার লাইসেন্সপ্রাপ্ত; অপরদিকে মালায়েক নুর বা আলোর তৈরী এবং তারা মানুষকে সবসময় আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। আগুন যেখানে দেহ-মনকে দগ্ধ করে, নুর সেখানে দেহ মনকে দহন করে না। এখন মানুষ পরীক্ষা ক্ষেত্রে এসে আগুন এবং আলো – এ দু’টি শক্তির যে কোনটি বেছে নিতে পারে। যদি আগুন নেয়, তাহলে তা দহন করে আর নুর নিলে তা দহন করে না। মানুষ যাকে বিবেক বলে সেটিই হচ্ছে মালায়েকদের পরামর্শ, সেটিই নুর। এগুলো মানব সভ্যতা স্বীকার করে নিয়েছে, কিন্তু সর্বোতভাবে গ্রহণ করেনি। এ কারণেই আল-কুরআনের ১০৩ নং সূরা সূরা আল-আসরের ২ ও ৩ আয়াতে আল্লাহ বলছেন নিশ্চয়ই মানুষ ভুল পথে, কেবল তারা যারা ইমান এনেছে, সৎ কর্ম করেছে এবং পরস্পরকে সত্য এবং সবর বা ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছে। এ থেকে আমরা জানতে পারি শর্তসাপেক্ষ কর্মকান্ডে লিপ্ত ব্যক্তি বাদে অধিকাংশ মানুষই ক্ষতিতে লিপ্ত আছে এবং এ ক্ষতি হচ্ছে একটি অনন্তকালীন জীবন প্রাপ্তির ক্ষতি। আল্লাহ মুমীনদের এ দুনিয়ার জীবনকে বন্দীশালার জীবন বলে অভিহিত করেছেন, অপরদিকে আল্লাহর নির্দেশিত জীবনযাপন থেকে দূরে থাকা ব্যক্তিদের জন্য এ জীবনকে বালাখানা বা আনন্দ উল্লাসের জায়গা বলেছেন। দুনিয়ায় এ বোধটি দুটো ভাগ করে দিয়েছে, যাদের এক পক্ষে আছে মুমীনরা আর অপরদিকে আছে কাফেররা। আজ যে সংঘাত এটি মূলতঃ মুমীন ও কাফেরের সংঘাত।
আমরা জানি একটি কাফেরও মানে যে, একটি দেশে কেউ জন্মগ্রহণ করলে তারা সে দেশের নাগরিক হয় এবং তারা সে দেশের অস্তিত্বের অংশ। এমন শর্ত পূরণ করেছিল মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমান ও হিন্দুরা, কিন্তু আজ তারা কেউ রক্ষা পায়নি। শুধুই একটি বিশ্বাস থেকে তা হচ্ছে মুসলমানরা সংখ্যায় বেড়ে যাচ্ছে, তারা সাপের মত ইত্যাদি। একজন উলঙ্গ ব্যক্তির কাছে পোষাকে আবৃত ব্যক্তিকে উপহাস করার মত মনে হয়, কারণ লেঙ্গটার কাছে মনে হয় দুনিয়ার সকলেই তো ল্যাঙ্গটা। কিন্তু দৃশ্যত: তা না। কিন্তু তা না হলেও আজ ল্যাঙটা হলে তিনি কামেল হন, তিনি পাগল হন, তার কাছে তদ্বিরের জন্যও যান অনেকে। আজকে শয়তানের ধোঁকায় পড়ে যারা পোষাকী পবিত্রতা নয়, উলঙ্গপনার পীর-মুরশিদি প্রিয়, তাদের কাছে মুসলমানরা সাপ তুল্য। অন্তরে এ বিষ সঞ্চারিত হতে পারে কেবল তখনই যখন সৃষ্টিকর্তা হিসেবে কেউ যদি আল্লাহকে অস্বীকার করে। বিধানদাতা হিসেবে যারা আল্লাহকে মেনে নিতে পারে না, তারা শয়তানের ঘাড়ে আশ্রয় নিয়ে আইন করে এবং সে আইনকেই তারা পপুলার আইন বলে আত্মতৃপ্তি পেতে চায়, কিন্তু সে পপুলার আইন নামক মানব রচিত আইনই তাদেরকে ইহকালীন ও পরকালীন শূণ্যতায় ঠেলে দেয়। এক সময় সমাজতন্ত্র নামক আল্লাহর অস্তিত্ববিহীন মতবাদ গড়ে উঠেছিল, তা এখন পরাভূত হয়েছে আদর্শগত ব্যর্থতার কারণে। সেখানে টিকে আছে আল-কুরআন। আর তাতো হবেই, কারণ এটাতো সৃষ্টিকর্তার নিজ গরজে প্রবর্তিত দিক নির্দেশক। ওং শান্তির সে সব তোতাপাখিদের বোল কেন পাল্টালো- তা ভাবতে কষ্ট হয়। কে তাদের চাবি ঘুরিয়েছে? অন্তরের বিষ কোন রাসায়নিক বিক্রিয়ায় তৈরী হয়েছে? কোন মরণ কামড়ে পড়ে আজ শিশুদের হত্যায় লিপ্ত হয়েছে তারা? সাদা হবার গোরিমা লালন করে পশ্চিমা দেশের সেই হোয়াইট ম্যানিয়া বা বর্ণবাদ কীভাবে তাদের অন্তরকে আজ বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত করলো?
আজ যদি মুসলমানরা এমন বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হোত, তাহলে ভারতে মুসলমানরা সংখ্যালঘু হয়ে থাকতো না, শত শত হিন্দু বৌদ্ধ গণহত্যা করে তারা আজ সংখ্যাগুরু হোত। ইতিহাসে মুসলমানরা (গড়ে) সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে আছে বলেই মুসলমানরা আজ জাহান্নামের লাকড়ীদের চক্ষুশূল হয়ে গেছে। তবে এ প্রক্রিয়াটি এক দিনে হয়নি, মুসলমানদেরকে নেশাগ্রস্থ করে তাদের ভিতরে থাকা মালায়েকদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ইবলিসের মুরিদ বানিয়েই তবে এ গলাকাটা করা হয়েছে।
এটাও একটি নিয়তি, যারা হক এবং বাতিলকে চিহ্নিত করতে পারেনি, তারা ইতিহাসে এভাবেই নিগৃহীত হয়।
আমি শুরু করেছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা দিয়ে। আমি আবারও বলি – জাতিগঠন, জেন্ডার, মার্ক্সবাদ, লেলিনবাদ, মাইগ্রেশন থিওরী, তুলনামূলক রাজনীতি, পলিসি এনালাইসিস, আর্ন্তজাতিক সম্পর্ক ইত্যাদি – কত কিছুই তো পড়তে হয়েছিলাম, তবু দু:খ : সে জ্ঞান আমরা কাজে লাগাতে পারিনি আমরা জাতি গঠন করতে পারিনি? – বলতে পারেন আমাদেরকে কাজে লাগানো হয়নি। মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর মত জাতি হতে পারলাম না কেন? কেন কাফেরের অন্তরের বিষক্রিয়ায় আমাদের প্রতিবেশী মানুষগুলো এভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে, আর আমরা কিছুই করতে পারলাম না?
আল-কুরআন, সুন্নাহ পড়লে অবশ্যই একটি দৃঢ়চেতা সমরশক্তি থাকতো, আমরা সে শক্তি অর্জনের ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের সম্পর্কে কোন ভয় এখন ঘাতকদের নেই। আমরা কেবলই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হবো।
এ জন্য বলি আসুন কুরআন ও সুন্নাহর যে মন্ত্র আমাদের রাসূল সা.কে এক হাতে তলোয়ার এবং আরেক হাতে কুরআন নিতে অনুপ্রাণিত করেছিল, আমরাও তা করি, এক হাতে কুরআন থাকলে ভাল। তবে তলোয়ারের যে কারামত আল্লাহর রাসুল সা. দেখিয়েছিলেন – তা আপনাকে স্বীকার করতে হবে । শত্রুর সমকক্ষ অস্ত্র আপনার থাকতে হবে, যা রাসুল সা. এর ছিল।
মানব অন্তরের বিষ নিষ্ক্রিয় করার মন্ত্র আল্লাহর রাসূলের পথ থেকে বিচ্যুতি বা আধা-অনুসরণ কোনটির মধ্যেই নেই। তজবিহ টিপবেন মসজিদের ভিতরে আর ইবলিসকে পাহারা দিতে দেবেন মসজিদের বাইরে- তা একটি ভুল ধারণা। এভাবে করলে ইবলিস তো আগুন আপনাকে জীবন্ত পুড়িয়ে অঙ্গার করবে – আপনি কি বারবার অঙ্গার হতে চান?


© Copyright
All rights reserved to Editor
Editor
Muhammad Shamim Akhter
Contact
Pallabi, Dhaka
Bangladesh
Mobile phone: 01536179630 / 01914042834
email: shamim2sh@gmail.com